

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয়ে অনিয়মিত অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বিতর্কেও তাঁর নাম উঠে এসেছে। এবার ফেসবুক লাইভে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরলেন তিনি।
সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে জ্যোতিকা জ্যোতি দাবি করেন, তিনি মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে একঘরে করে রাখা হচ্ছে এবং পেশাগতভাবে নানা ধরনের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।
লাইভে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, “এই বাংলাদেশে জন্ম নিয়েই ভুল করেছি।”
জ্যোতিকা আরও বলেন, নিজেকে তিনি এখন ‘হেল্পলেস’ বা অসহায় মনে করছেন। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল, কটূক্তি ও ব্যক্তিগত আক্রমণ চলছে। শুধু অনলাইনেই নয়, পেশাগত জীবনেও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন এই অভিনেত্রী।
অভিনেত্রীর দাবি, একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী তাকে পরিকল্পিতভাবে কাজ থেকে দূরে রাখছে। বিভিন্ন গ্রুপিংয়ের কারণে নতুন কোনো কাজ পাচ্ছেন না। ফলে একপ্রকার ঘরবন্দি জীবন কাটাতে হচ্ছে তাকে। তিনি বর্তমান সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘এর একটা শেষ করেন প্লিজ।’
জ্যোতিকা জ্যোতির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। তিনি বহুল আলোচিত ‘আলো আসবেই’ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের অন্যতম সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সমর্থক শিল্পী হিসেবে পরিচিত থাকায় ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর তাকে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিকে ঘিরেও আলোচনায় এসেছিলেন জ্যোতিকা। সে সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, তাকে অফিসকক্ষে আটকে রাখা হয়েছে। পরে ফেসবুক লাইভে এসে ঘটনার নিজের বর্ণনা দেন তিনি।
সেই লাইভে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জ্যোতি বলেছিলেন, ‘চলমান পরিস্থিতির কারণে তাকে অফিসে যেতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। তবুও চাকরির দায়িত্ববোধ থেকে তিনি অফিসে যান। সেখানে গিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ দেখতে পান। পরে মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা হলে তিনি পরিস্থিতি বিবেচনায় অফিস ছাড়ার পরামর্শ দেন।’
জ্যোতি জানান, নিজের কক্ষ থেকে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র গুছিয়ে বের হওয়ার সময় তিনি বাইরে থাকা লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন; কিন্তু কেউ তার সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। সে অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘যে মুখগুলো আগে পরিচিত ছিল, সেগুলো সেদিন খুব অপরিচিত লাগছিল।’ কথাগুলো বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন অভিনেত্রী।
২০০৪ সালে একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর জ্যোতিকা জ্যোতি। টেলিভিশন নাটকের পাশাপাশি তিনি অভিনয় করেছেন ‘আয়না’, ‘নন্দিত নরকে’, ‘জীবনঢুলি’, ‘অনিল বাগচীর একদিন’, ‘মায়া: দ্য লস্ট মাদার’, ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ এবং কলকাতার ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’সহ বেশ কয়েকটি আলোচিত চলচ্চিত্রে।
সাম্প্রতিক লাইভে তার বক্তব্য নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। একদিকে কেউ তার মানসিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, অন্যদিকে অনেকে তার বক্তব্যের সমালোচনাও করছেন।