শনিবার
০১ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
০১ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একসময় বাসাভাড়া দিতে না পারা সঞ্জয় আজ বিশ্বের পরিচিত মুখ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৬ পিএম
এনপিবি কোলাজ
expand
এনপিবি কোলাজ

ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে পারফর্ম করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পী সঞ্জয় দেব। বিশ্বকাপের মতো বিশ্বমঞ্চে এটিই কোনো বাংলাদেশি তারকার প্রথম অংশগ্রহণ, যা তাকে নিয়ে এসেছে তুমুল আলোচনায়।

সম্প্রতি ঢাকায় একটি পরিবেশনায় অংশ নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি খোলামেলা কথা বলেছেন তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার, সংগ্রাম এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে।

সংগ্রামেই রূপ নিয়েছিল স্বপ্ন

পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন সঞ্জয়। তবে পথচলাটা সহজ ছিল না। সাক্ষাৎকারে নিজের শৈশব ও কৈশোর কথা স্মরণ করে তিনি জানান, দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর চারজনের পরিবারকে সামলাতে তার বাবা-মাকে চরম কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে।

বেঁচে থাকার তাগিদে দুজনকেই একাধিক কাজ করতে হয়েছে। ছোট ভাইয়ের জন্মের পর মা-বাবার এই আত্মত্যাগ দেখে সঞ্জয়ের মনে তীব্র ইচ্ছাশক্তি জেগে ওঠে- যেকোনো মূল্যে মা-বাবার কষ্টের দিনগুলোর অবসান ঘটাতে হবে।

সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তিভিত্তিক এবং উদ্ভাবনী পরিবেশ তার স্বপ্নকে ডানা মেলতে সাহায্য করেছিল। গুগল ও অ্যাপলের মতো জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বপ্নদ্রষ্টাদের দেখে এবং স্কুলের শিক্ষকদের দিকনির্দেশনায় সঞ্জয় নিজেকে সংগীতে প্রতিষ্ঠিত করার সিদ্ধান্ত নেন।

মেঝেই ছিল বিছানা, ১০০ ডলারে বিক্রি করতেন বিট

সংগীতকে ভালোবেসে লস অ্যাঞ্জেলেসে পাড়ি জমানোর পর তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের মুখোমুখি হন সঞ্জয়। সিলিকন ভ্যালি থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে আসার পর ঘরভাড়া দেওয়ার মতো সামর্থ্যও তার ছিল না।

মা-বাবাকে না জানিয়ে কয়েক শ ডলার বাঁচানোর তাগিদে দীর্ঘ পাঁচ বছর ঘরের মেঝেতে ঘুমিয়ে দিন কাটিয়েছেন তিনি, যাতে বেঁচে যাওয়া অর্থ দিয়ে সংগীতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

টিকে থাকার তাগিদে এবং সংগীত তৈরির খরচ চালাতে নিজের তৈরি মিউজিক বিট ১০০ থেকে ১৫০ ডলারে বিক্রি করতেন তিনি। শুরুর দিকে সহকর্মী ও পরিবারের সমালোচনার মুখোমুখি হলেও মিউজিকের প্রতি অগাধ ভালোবাসা তাকে পিছপা হতে দেয়নি।

পারিবারিক শিক্ষা ও অদম্য জেদ

একসময় ভালো মিউজিক বানাতে না পারা সেই তরুণই আজ আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনের পরিচিত মুখ। প্রতিকূল পরিবেশেও সংগীতে টিকে থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, পরিবার থেকেই তিনি কখনো হার না মানার মানসিকতা পেয়েছেন। মা-বাবা এবং দাদা-দাদির জেদ ও অধ্যবসায়ই তার রক্তে কাজ করেছে।

তিনি বিশ্বাস করেন, মিউজিক এমন একটি সার্বজনীন ভাষা, যা দিয়ে বিশ্বের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করা যায়। বিশ্বমঞ্চে পারফর্ম করার পরও সঞ্জয় দেব মনে করেন, অতীতের সেই কঠিন যাত্রাই তার বর্তমান অর্জনের আসল ভিত্তি এবং সংগীতে আরও বড় কিছু রেখে যাওয়াটাই এখন তার মূল লক্ষ্য।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন