

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার অভিনেতা, সংগীতশিল্পী, ক্রীড়াবিদসহ বেশ কয়েকজন তারকাকে প্রার্থী করে চমক দেখিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি রাজনীতিতে একেবারে নতুন এই মুখগুলোরও সাফল্য আসে। স্বাভাবিকভাবেই সেই নির্বাচনে ল্যান্ডস্লাইড জয় পায় তৃণমূল কংগ্রেস।
৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল সরকার। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখানো পথেই হাঁটতে শুরু করে বিজেপি ও বামদলগুলোর জোট বামফ্রন্ট। বিধানসভা কিংবা লোকসভা নির্বাচন—রাজনীতিতে সেলিব্রেটি প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়তে থাকে।
বিশেষ করে বিনোদন জগতের তারকারাই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন। দীপক (দেব) অধিকারী, তাপস পাল, শতাব্দী রায়, মুনমুন সেন, শত্রুঘ্ন সিনহা, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, হিরণ চ্যাটার্জি, জুন মালিয়া, সায়নী ঘোষ—একের পর এক সেলিব্রিটি প্রার্থী জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
সেই ধারা এখনও অব্যাহত। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনেও শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি বিজেপিও একাধিক সেলিব্রিটিকে প্রার্থী করেছে। তবে এ ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে বামদলগুলো।
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় বিনোদন জগত থেকে জায়গা পেয়েছেন সোনারপুর কেন্দ্রে অভিনেত্রী লাভলী মৈত্র, চৌরঙ্গী কেন্দ্রে অভিনেত্রী নয়না ব্যানার্জি, বরানগর কেন্দ্রে অভিনেত্রী সায়ন্তিকা ব্যানার্জি, মানিকতলা কেন্দ্রে অভিনেত্রী শ্রেয়া পান্ডে, করিমপুর কেন্দ্রে অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী এবং ব্যারাকপুর কেন্দ্রে পরিচালক রাজ চক্রবর্তী।
এ ছাড়া তৃণমূলের সেলিব্রেটি প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন রাজারহাট গোপালপুর কেন্দ্রে সংগীতশিল্পী অদিতি মুন্সি, চন্দননগর কেন্দ্রে সংগীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেন, তুফানগঞ্জ কেন্দ্রে সাবেক ক্রিকেটার শিব শংকর পাল এবং সপ্তগ্রাম কেন্দ্রে সাবেক ফুটবলার বিদেশ বসু।
অন্যদিকে আসন্ন নির্বাচনে একাধিক অভিনেতা-অভিনেত্রীকে প্রার্থী করেছে বিজেপিও। তাদের তারকা প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন শিবপুর কেন্দ্রে রুদ্রনীল ঘোষ, শ্যামপুর কেন্দ্রে হিরণ চ্যাটার্জি, যাদবপুর কেন্দ্রে অভিনেত্রী শর্বরী মুখার্জী, টালিগঞ্জ কেন্দ্রে অভিনেত্রী পাপিয়া দে অধিকারী এবং সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রে অভিনেত্রী রূপা গাঙ্গুলী। অন্য ক্ষেত্রের তারকা প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সংগীতশিল্পী অসীম সরকার, তিনি লড়ছেন হরিণঘাটা কেন্দ্র থেকে; আর ময়না কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে সাবেক ক্রিকেটার অশোক দিন্দাকে।
এ নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের ভিন্ন মত রয়েছে। ব্যারাকপুরের তৃণমূল প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী জানান, মানুষ কাজের নিরিখেই ভোট দেয়। কাজের নিরিখে মানুষ এখানকার সরকারকে নির্ধারণ করবে। প্রার্থীদের যে পেশা থেকেই নিয়ে আসা হোক না কেন, বাংলার মানুষ ঠিক করে ফেলেছেন তারা তৃণমূলকে ভোট দেবেন, তৃণমূলের সরকার হবে এবং চতুর্থবারের জন্য মমতা ব্যানার্জিকে মুখ্যমন্ত্রী করবেন।
বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী এবং সাবেক কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেছেন, আমার মনে হয় তারা যে পেশায় ছিলেন সেই পেশায় রোজগার কমে গেছে, তাই বিকল্প পেশা হিসেবে রাজনীতিকে বেছে নিয়েছেন। কিন্তু প্রথমে তারা আসেননি কেন জানি না। কিন্তু রাজনীতিও একটা খেলার ময়দান। সেই খেলায় যদি অন্য জগতের খেলোয়াড়রাও আসে তবে খেলা আরও জমে উঠবে।
পানিহাটি কেন্দ্রের সিপিআইএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত মনে করেন, তৃণমূল বা বিজেপির যেই প্রার্থী হোক না কেন তারা মানুষের জন্য কোন কাজ করেনি। এটা গত ১০-১৫ বছরে প্রমাণ হয়েছে। ফলে কে গুরুত্বপূর্ণ সেটা বড় কথা নয়, মানুষের জন্য কি কাজ হচ্ছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। তার অভিমত, লোকে যাতে টিভিতে দেখে এবং সেটা দিয়ে ভোট বৈতরণী পার হওয়ার একটা চেষ্টা হতে পারে। কিন্তু মানুষের জন্য কাজ না হলে পাঁচ বছর পর সেই মানুষই বিক্ষোভে ফেটে পড়বেন।
ইতোমধ্যেই নির্বাচনী ময়দানে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন এই তারকা প্রার্থীরা। তবে বছরের অন্য সময়গুলোতে এই তারকা প্রার্থীদের জনসমক্ষে দেখা না গেলেও, নির্বাচনের এই কটা দিন সাধারণ মানুষ হয়ে যান। ভোটারদের মন জয় করতে তারাই রোদে পুড়ে, বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে দরজায় দরজায় ভোট ভিক্ষা চান। প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দেন।
আর মনে ক্ষোভ থাকলেও তারকা প্রার্থীদের কাছে পেয়ে সব ক্ষোভ ভুলে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে ভোটাররাও। তারকা প্রার্থীদের সান্নিধ্যে আসা, হাতে হাত মেলানো, ছবি তোলা, সেলফি তোলা- কোনো কিছুই অপূর্ণ থাকে না। আর সেখানেই হয়তো প্রাথমিক জয়টা পেয়ে যান তারকা প্রার্থীরা। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই এই বিভিন্ন পেশার তারকাদের নিজেদের দলের প্রার্থী করে চলেছে রাজনৈতিক দলগুলো।
মন্তব্য করুন
