

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাসের সঙ্গে ভোট দিচ্ছেন।
তবে সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রার্থীদের প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটকেন্দ্র থেকে অন্তত ১০০ মিটার দূরে প্রচারণা চালানোর নিয়ম থাকলেও প্রার্থীরা তা মানছেন না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, লাইনের কাছে গিয়ে ভোট চাইছেন তারা, লিফলেট ও কার্ডও বিতরণ করছেন। এতে করে ভিড় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র, কার্জন হল, উদয়ন স্কুলসহ একাধিক কেন্দ্রে দেখা যায়, প্রার্থীরা হাতে লিফলেট দিয়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ দলীয় প্রার্থীদের তালিকাও সরবরাহ করছেন। এতে প্রবেশপথে জট তৈরি হওয়ায় ভোটারদের ভোগান্তি বেড়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী ৭ সেপ্টেম্বরের পর থেকে কোনো ধরনের প্রচারণা নিষিদ্ধ। কিন্তু নির্বাচন দিবসেও অধিকাংশ হলের সামনে প্রার্থীদের অবস্থান ও প্রচারণা অব্যাহত ছিল। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ডাকসুর মানবসেবা সম্পাদক এ বি জোবায়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের প্রবেশমুখে অভিযোগ জানাতে আসলে তাকে ‘মবস্টার’ বলে তাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ছাত্রদল ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের প্রার্থীরা তার দিকে তেড়ে আসেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘ছাত্রদল এখানে কৃত্রিম জটলা তৈরি করে ডাকসুর ফুল প্যানেলের লিস্ট ধরিয়ে দিচ্ছে। এটা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হওয়ায় আমি এটার প্রতিবাদ করতে গেলে তারা আমার সাথে বাগবিতণ্ডায় জড়ায়।’
এছাড়া পর্যবেক্ষক হিসেবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফাও শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের সামনের পরিস্থিতি দেখে এর প্রতিবাদ জানান।
ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী রাহাত সিকদার বলেন, “এটা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন চাই।”
এক ভোটার আসিফ বলেন, “অনেক প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা নিয়ম মানছেন না। কেউ কেউ তো টেবিল বসিয়ে প্রচারণা করছেন।”
হাজী মুহম্মদ মুহসিন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “এমনটা কাম্য নয়। আমি নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি যাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সাইফুদ্দীন আহমেদ জানান, “কেন্দ্রের ১০০ মিটারের ভেতরে কোনো প্রার্থীর প্রচারণা চালানোর সুযোগ নেই। কেউ নিয়ম ভাঙলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এবার ডাকসুর ২৮টি পদের জন্য লড়ছেন ৪৭১ জন প্রার্থী। এছাড়া ১৮টি হলে ২৩৪টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১ হাজার ৩৫ জন। একজন ভোটারকে মোট ৪১টি ভোট দিতে হবে—ডাকসুর জন্য পাঁচ পাতার ব্যালটে ও হল সংসদের জন্য এক পাতার ব্যালটে।
মন্তব্য করুন
