

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।
১৯৯০ সালের পর এটিই প্রথম এবং রাকসুর ১৫তম নির্বাচন। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে ১৭টি কেন্দ্রে স্থাপিত ৯০৯টি বুথে।
এ নির্বাচন ঘিরে প্রার্থী, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমাজের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ক্যাম্পাসজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এবারের রাকসু নির্বাচনে মোট ৮৬০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৮৩টি পদের জন্য। এর মধ্যে রাকসুর ২৩টি পদের বিপরীতে প্রার্থী ২৪৭ জন, ১৭টি হলের ২৫৫টি হলসংসদ পদের জন্য প্রার্থী ৫৯৭ জন এবং সিনেটের ৫টি আসনের বিপরীতে ৫৮ জন।
ভোটার সংখ্যা ২৮ হাজার ৯০১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৭,৫৯৫ এবং নারী ভোটার ১১,৩০৬ জন।
এবার রাকসু নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ ও ছাত্রশিবির ঘনিষ্ঠ ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’-এর মধ্যে। এছাড়াও আলোচনায় রয়েছে আরও ছয়টি প্যানেল, যারা নানা মতাদর্শ ও সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করছে:
রাকসু ফর র্যাডিক্যাল চেঞ্জ (ছাত্র অধিকার পরিষদ ও ফেডারেশন নেতৃত্বাধীন)। আধিপত্যবিরোধী ঐক্য প্যানেল (সাবেক সমন্বয়কদের নেতৃত্বে)।
গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী পর্ষদ (বামজোট)। অপরাজেয় ৭১, অপ্রতিরোধ্য ২৪ (ছাত্র ইউনিয়ন-একাংশ)। সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ (নারী নেতৃত্বাধীন প্যানেল)।
সচেতন শিক্ষার্থী পরিষদ (ইসলামী ছাত্র আন্দোলন সমর্থিত)।
ভিপি পদে ১৮ জন এবং জিএস পদে ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উল্লেখযোগ্য ভিপি প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন শেখ নূর উদ্দীন আবীর, মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, ফুয়াদ রাতুল, মেহেদী মারুফ, তাসিন খান প্রমুখ। জিএস প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন নাফিউল ইসলাম জীবন, ফজলে রাব্বি ফাহিম রেজা, কাউছার আহম্মেদ, আফরিন জাহান, সালাহউদ্দীন আম্মার, শরিফুল ইসলামসহ আরও অনেকে।
ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে ক্যাম্পাসে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে ২৩০০ পুলিশ সদস্য, ছয় প্লাটুন বিজিবি ও ১২ প্লাটুন র্যাব। এছাড়া গুজব প্রতিরোধে সক্রিয় রয়েছে পুলিশের সাইবার টিম। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি গেট খোলা থাকবে, যেখানে চেকপোস্টের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করে প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যানবাহন চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। শুধু স্টিকারধারী যান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত গাড়িগুলো চলাচলের অনুমতি পাবে। প্রতিটি ভোটারকে ৪৩টি পদে ভোট দিতে হবে। একেকটি ভোটে সময় বরাদ্দ ১৪ সেকেন্ড। সব মিলিয়ে একজন ভোটারকে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট সময় দেওয়া হবে। বুথে এর বেশি সময় থাকার অনুমতি থাকবে না।
ভোটগ্রহণের পর ১৭ ঘণ্টার মধ্যে ওএমআর প্রযুক্তির মাধ্যমে ভোট গণনা করে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। গণনা ও ফল প্রকাশের জন্য গঠিত হয়েছে ৪৩ সদস্যবিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ কমিটি।
নির্বাচনে কারচুপি রোধে নেওয়া হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা। ভোটার যাচাইয়ের জন্য ইউনিক আইডি, ছবিসহ ভোটার তালিকা এবং গোপনীয় কিউআর কোড ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “আমরা চাই একটি অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, যেখানে কোনো পক্ষ প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাবে না।”
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
মোট কেন্দ্র: ১৭
মোট বুথ: ৯০৯
ভোটগ্রহণ: সকাল ৯টা - বিকেল ৪টা
মোট ভোটার: ২৮,৯০১ জন
মোট প্রার্থী: ৮৬০ জন
ভিপি প্রার্থী: ১৮ জন
জিএস প্রার্থী: ১৩ জন
সিসিটিভি: প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে
ভোট ফল: ১৭ ঘণ্টার মধ্যে
এই নির্বাচন শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আয়োজিত এই নির্বাচন শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন আশা জাগিয়েছে, যে গণতান্ত্রিক চর্চা পুনরায় সক্রিয় হতে চলেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে।
মন্তব্য করুন