

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দীর্ঘ ৩৫ বছর আজ (বুধবার) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচন।
সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে ভোটগ্রহণ, চলবে বিকেল চারটা পর্যন্ত। বহুল প্রতিক্ষীত এই নির্বাচনে ভোট দেবেন ২৭ হাজার ৫২১ জন শিক্ষার্থী।
চাকসুর এবারের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট ৯০৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ উপলক্ষে কয়েকদিন ধরেই চবি ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রচার-প্রচারণা শেষ হলেও শিক্ষার্থীদের আলোচনায় এখনো রয়েছে সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থী ও নির্বাচনি ইশতেহার।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ১৩টি প্যানেল। শীর্ষ তিন পদ—সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।
১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়বার চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আজ সপ্তমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই নির্বাচন।
এত দীর্ঘ বিরতির পর ছাত্ররাজনীতিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা দারুণ আগ্রহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে ভোটে অংশ নিচ্ছেন।
এবারের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদের ২৬টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪১৫ জন। হল সংসদের জন্য ৪৭৩ জন এবং হোস্টেল সংসদের জন্য ২০ জন প্রার্থী রয়েছেন।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া ১৩টি প্যানেলের মধ্যে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৪ জন প্রার্থী। এছাড়া জিএস পদে ২২ জন এবং এজিএস পদে লড়ছেন ২১ জন।
এছাড়া ক্রীড়া সম্পাদক, আবাসন সম্পাদক, সাহিত্য সম্পাদক, সমাজসেবা সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন ১০ থেকে ২০ জন করে।
এবারের চাকসু নির্বাচনে ৪৭ জন নারী প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। তবে শীর্ষ তিন পদে মাত্র একজন নারী—চৌধুরী তাসনীম জাহান শ্রাবণ (জিএস পদে)। এজিএস পদে অংশ নিচ্ছেন ছাবেকুন নাহার ও জান্নাতুল ফেরদৌস।
নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে চবি ক্যাম্পাসের নতুন কলা ভবন, বিজ্ঞান অনুষদ, সমাজবিজ্ঞান ও বাণিজ্য অনুষদ ভবন এবং আইটি ভবনে। এসব কেন্দ্রে থাকবে ৬০টি কক্ষে ৭০০টির বেশি বুথ। প্রতিটি বুথে ভোট দেবেন ৪০০ থেকে ৫০০ শিক্ষার্থী।
দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীদের জন্য চাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় বিশেষ ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স এবং ওএমআর প্রযুক্তিতে ভোট গণনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রতিটি ব্যালটে থাকবে ২৪ ডিজিটের কোড ও একটি গোপন নিরাপত্তা কোড, যা মেশিনের মাধ্যমে শনাক্ত করা যাবে।
একজন ভোটারকে মোট ৪০টি ভোট দিতে হবে। এর মধ্যে চাকসুর জন্য ২৬টি, হল বা হোস্টেলের জন্য ১৪টি। এজন্য একজন ভোটারকে সময় দেওয়া হবে ১০ মিনিট। প্রতিটি ব্যালট চার পৃষ্ঠার এবং নির্দিষ্ট কলম দিয়ে সম্পূর্ণ বৃত্ত ভরাট করে ভোট দিতে হবে।
নির্বাচন ঘিরে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। থাকছে র্যাব, পুলিশ, বিজিবি, এপিবিএন এবং প্রয়োজনে সেনাবাহিনী। সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র দেখিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। বহিরাগত কাউকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
শিক্ষার্থীদের ভোটকেন্দ্রে আনার জন্য থাকবে ৩০টি বাস এবং নগর থেকে চবিতে ১১টি শাটল ট্রেন। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখবেন।
মন্তব্য করুন
