বৃহস্পতিবার
০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংসদ উপনেতা পদে আলোচনায় যারা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩২ এএম
জাতীয় সংসদ ভবন। ফাইল ছবি
expand
জাতীয় সংসদ ভবন। ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। এরই ধারাবাহিকতায় ১২ মার্চ বসবে সংসদের প্রথম অধিবেশন। এমন অবস্থায় সরকারি দলের ‘সংসদ উপনেতা’ কে হচ্ছেন-তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা।

তবে যতটুক জানা গেছে, তা হলো-এ তালিকায় এগিয়ে আছেন বিএনপির প্রবীণ নেতারা। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ড. আব্দুল মঈন খানের নাম প্রথম দিকে রয়েছে। তিনজনই এবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তবে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় তাদের জায়গা হয়নি।

ফলে সংসদ উপনেতা পদে এ তিনজনের নামই সবার আগে উঠে আসছে। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানের নামও শোনা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে তাকে সংরক্ষিত মহিলা আসনে সংসদ-সদস্য হতে হবে। কারণ তিনি নির্বাচিত সংসদ-সদস্য নন।

সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, সংসদ নেতা হন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া সংসদ উপনেতা নির্বাচন করে সরকারি দল। সংসদ নেতার অনুপস্থিতিতে উপনেতাই কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। মন্ত্রী পদমর্যাদার সংসদ উপনেতার জন্য সংসদে অফিস রয়েছে। মন্ত্রীদের মতো সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন তিনি।

সূত্র জানায়, প্রথম অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পাশাপাশি সংসদ উপনেতা নির্বাচনের কথা রয়েছে। বিএনপির সিনিয়র বেশ কয়েকজন নেতাকে নিয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নানা আলোচনা- পর্যালোচনা চলছে। রাষ্ট্র ও সংসদের শীর্ষ পদগুলোতে অভিজ্ঞ ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মুখ বসাতে চাইছে দলটি।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমান সংবিধানে সংসদ উপনেতা নির্বাচনের বিধান নেই। তবে অতীতের সংসদ উপনেতা করার নজির রয়েছে। বিএনপির নেতাদের কারও কারও মতে, এর প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে।

জানা যায়, ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় সংসদ উপনেতা নির্বাচিত হন অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তখন প্রায় ২ মাস তিনি সংসদ উপনেতার দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তী সময়ে এই পদ নিয়ে দলটির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ছিল। তবে কেউই আর সংসদ উপনেতা হতে পারেননি। ২০০১ সালের পর বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া ও স্থায়ী কমিটির সদস্য এম সাইফুর রহমানের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকায় কেউ এ পদে বসতে পারেননি।

তবে তখনকার প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পাশের সিটে বসতেন সাইফুর রহমান। ২০০৮ সালে বিএনপি বিরোধী দলে গেলে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মধ্যে প্রতিযোগিতার কারণে কাউকেই উপনেতা করা হয়নি।

ইতোমধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও হুইপ নির্বাচন করেছে বিএনপি। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি, স্পিকার ও উপনেতার পদ চূড়ান্ত করা হবে। অভিজ্ঞতা, সিনিয়র, রাজনৈতিক কৌশল-সব মিলিয়ে রাষ্ট্র ও সংসদের এ তিন শীর্ষ পদে শেষ পর্যন্ত কারা আসছেন তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একনেতা বলেন, এ মুহূর্তে তিনটি পদ নিয়ে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে কিছুটা আলোচনা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি, স্পিকার ও সংসদ উপনেতা-এ তিন পদে সংসদ-সদস্য ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ঘুরেফিরে কয়েকজন সিনিয়র নেতার নাম উঠে আসছে।

তবে সিনিয়র নেতারা সবাই যার যার মেধা ও দক্ষতায় এসব পদের যোগ্য। ফলে সবকিছু নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর। তিনি যাকে যোগ্য মনে করবেন, তাকেই তার পাশের সিটে (সরকারি দলের সংসদ উপনেতা) বসাবেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন