

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নিরাপত্তাহীন পরিবেশে নির্বাচন হলে সেখান থেকে সরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনার কথা বলেছেন বিএনপির ভোটের প্রার্থী ও গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুর।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে ধারাবাহিক সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। এর আগে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি অবহিত করার কথা জানান নুর।
নুরুল হক নুরের অভিযোগ, পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাসান মামুন ও তাঁর অনুসারীরা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একের পর এক হামলা, অগ্নিসংযোগ ও সংঘাতের ঘটনায় জড়িত। এতে তাঁর কর্মী–সমর্থকেরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
নুর বলেন, গতকাল সোমবার গভীর রাতে দশমিনা উপজেলার আলিপুরা ইউনিয়নে তাঁর ট্রাক প্রতীকের একটি নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এর আগে ৬ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নে তাঁর কর্মী মাঈনুল ইসলামের বসতঘরে আগুন দেওয়া হয়, যা একটি পরিবারের হত্যাচেষ্টার শামিল।
তিনি আরও বলেন, ৩১ জানুয়ারি রাতে গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নে তাঁর আটজন কর্মীকে মারধর করা হয়। এর আগে ২৬ জানুয়ারি দশমিনা উপজেলার চরবোরহান ইউনিয়নে ট্রাক প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে সাত থেকে আটজন কর্মী–সমর্থককে মারধর করা হয়।
নুরের অভিযোগ অনুযায়ী, ২৫ জানুয়ারি রাতে চিকনিকান্দি এলাকায় তাঁকে ও তাঁর কর্মী–সমর্থকদের পথরোধ করে উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে সংঘাতের চেষ্টা করা হয়। ২৪ জানুয়ারি গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি এলাকায় তাঁর কর্মী রাকিবকে মারধর করা হয়। এ ছাড়া ১৪ জানুয়ারি প্রার্থী হাসান মামুন মুঠোফোনে কল করে তাঁর সমর্থক আবু হুরায়রাকে হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন নুর।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁর নির্বাচনী এলাকা চরবিশ্বাসে এক নারীকে ধর্ষণের পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে হত্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি চরকপালভেরা এলাকায় শ্রমিক অধিকার পরিষদের নেতা রিয়াজকেও মারধরের ঘটনা ঘটে।
নুরুল হক নুর বলেন, “প্রত্যাশিত একটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিকভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলছে। এভাবে চলতে থাকলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।”
তিনি জানান, আজ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং থানায় দুটি মামলা করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সবশেষে নুর বলেন, আগামীকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করবেন। এর মধ্যে প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কর্মসূচি দেওয়ার কথাও ভাবতে পারেন। তবে অনিরাপদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
তবে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, নুরুল হক নুরের পক্ষ থেকে উত্থাপিত কিছু অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফৌজদারি অভিযোগগুলো পুলিশ দেখছে।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় পটুয়াখালীর চারটি আসনের মধ্যে পটুয়াখালী-৩ আসনে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতির ওপর প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে।
মন্তব্য করুন
