

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবময় কর্মকাণ্ড বিশেষ করে ডাকসুর কর্মকাণ্ডের স্মৃতি সংরক্ষণে ডাকসুর সংগ্রহশালার সংস্কার কাজ শেষে উদ্বোধন করা হয়েছে। এ সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগ্রহশালাটিকে আরও আধুনিক, নান্দনিক ও সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা হয়েছে। সংগ্রহশালার সংস্কার কাজ শেষে শুভ উদ্বোধন করেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।
আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় এ সংগ্রহশালার সংস্কার কাজের উদ্বোধন করা হয়। সংস্কার কাজের সার্বিক তত্ত্ববধানে ছিলেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এইচ এম মোশারফ হোসেন, জিএস এস. এম. ফরহাদ, রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. শরিফুল ইসলাম, ডাকসুর ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, ডাকসুর সাবেক ভিপি বদরুল আলমের কন্যা ফারজানা আলম ও তার পরিবার, ডাকসু ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজের ইতিহাসের সঙ্গে ডাকসুর ইতিহাস গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ডাকসু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এসব কর্মকাণ্ডের অনেক স্মৃতি ও নিদর্শন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। সেগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণের জন্য ডাকসুর সংগ্রহ শালা রয়েছে। এতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সংগ্রহশালা জরাজীর্ণ অব্স্থায় ছিল। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরে সেটি আরও অত্যাধুনিক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করি। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সেটির সংস্কার কাজ শেষে উদ্ধোবন করা হলো।
তিনি আরও বলেন, আমরা আরও এক সপ্তাহের বেশি সময় এটিতে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল সংযোজন করব। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের ইতিহার, ঐতিহ্য ও গৌরবময় কর্মকাণ্ড এটিতে স্থান পেয়েছে। সময়ের সঙ্গে সংগ্রহশালায় নতুন নতুন উপকরণ যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ডাকসুর সাবেক নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে থাকা পুরোনো ছবি, নথি, প্রকাশনা, পোস্টার, স্মারক ও অন্যান্য ঐতিহাসিক উপকরণ সংগ্রহ করে পর্যায়ক্রমে তা সংগ্রহশালায় যুক্ত করা হবে। এর ফলে এটি ধীরে ধীরে ডাকসুর একটি সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক আর্কাইভে পরিণত হবে।
ডাকসুর সাবেক ভিপি বদরুল আলমের (সেশন-১৯৫৭-৫৮) কন্যা ফারজানা আলম বলেন, ডাকসু সংগ্রহশালাটিকে কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব ছাড়াই ১৯৫৭ সাল থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ইতিহাস ও তথ্য-উপাত্ত দিয়ে অত্যন্ত সুন্দর, ধারাবাহিক ও নিরপেক্ষভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের আগের প্রজন্মের মুরব্বিদের ডাকসুর সাথে সম্পৃক্ততা, কাজ, প্রতিকূলতা ও সাফল্য সম্পর্কে জানতে পারবে। তখনকার ছাত্র প্রতিনিধিরা রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে ছাত্র সমাজের কথা তুলে ধরেছিলেন এবং বর্তমানের এ সংস্কারের ফলে পরবর্তীকালে যে দল বা মতের প্রতিনিধি আসুক না কেন, কেউ এই ইতিহাসকে অবহেলা করতে পারবে না। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে কোনো একক দল কিংবা মতের লোককে প্রধান্য না দিয়ে প্রকৃত ও সত্য ইতিহাসগুলো তুলে ধরার জন্য এবং সত্য ও সুন্দর কাজটি সম্পন্ন করার জন্য ডাকসুর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
ডাকসুর জিএস এস. এম. ফরহাদ বলেন, ১৯৯০ সালের পর দীর্ঘ অবহেলা ও প্রায় ময়লার স্তূপে পরিণত হওয়া ডাকসু সংগ্রহশালাটিকে ডাকসুর উদ্যোগে ফাতেমা তাসনিম জুমার তত্ত্বাবধানে সংস্কার করে আজ উদ্বোধন করা হয়েছে। সংগ্রহশালাটিতে প্রাচীন ইতিহাস ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ২৪-এর জুলাই বিপ্লব এবং ২০০৯ থেকে ২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপ ক্রোনোলজিক্যাল আকারে তুলে ধরা হয়েছে। তবে কিছু ভিপির ছবিসহ এখনও কিছু ঘাটতি থাকায় আগামী এক সপ্তাহকে কারেকশনের সময় হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কারো কাছে কোনো তথ্য, ছবি বা কারেকশনের পরামর্শ থাকলে তা জানানোর জন্য আহ্বান করছি।
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ১৯৯০ সালের পর দীর্ঘ অবহেলা ও ফ্যাসিবাদের দখলে অকার্যকর থাকা ডাকসু সংগ্রহশালাটিকে সংস্কার করে ১৯০৫ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যেখানে ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং ফ্যাসিবাদ আমলের বিভিন্ন গণহত্যা ও জুলাই বিপ্লবের দুর্লভ দলিল, চিত্র ও শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা হয়েছে। ১৯২১ সাল থেকে শুরু হওয়া ৩৯টি ডাকসুর ইতিহাস এবং সাবেক ভিপি-জিএসদের নামসহ অনার বোর্ড এখানে যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি সংগ্রহশালাটি আরও সমৃদ্ধ করতে দেশবাসী ও গবেষকদের কাছে ঐতিহাসিক দলিলপত্র এবং জুলাই বিপ্লবের দুর্লভ চিত্র সংগ্রহশালায় জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ডাকসুর উদ্যোগে এটি বাংলাদেশের অন্যতম একটি তথ্যবহুল, ডেকোরেটেড ও সুগোছানো সংগ্রহশালা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।

