

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অফিসে কর্মরত ডেপুটি রেজিস্ট্রার স্বৈরাচারের পদলেহনকারী দালাল মুহাম্মদ রুহুল আমিনসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে প্রাপ্ত অভিযোগসমূহের নিরপেক্ষ তদন্তের অনুরোধ করে আজ প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
আজ বুধবার (২২ শে অক্টোবর)বেলা আড়াইটায় ঢাবির প্রশাসনিক ভবনস্থ উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) কার্যালয়ে এই স্মারকলিপি প্রদান করেন শিক্ষার্থীরা
এতে, ট্রেজারার অফিসে কর্মরত ডেপুটি রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ রুহুল আমিনসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে প্রাপ্ত অভিযোগসমূহের নিরপেক্ষ তদন্তের অনুরোধ জানানো হয়।
তারা বলেন, সম্প্রতি শিক্ষার্থী, কর্মচারী ও গণমাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত কিছু অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা, নৈতিক মানদণ্ড ও অভ্যন্তরীণ সম্প্রীতি সম্পর্কে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে"
উক্ত অভিযোগসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অফিসে কর্মরত ডেপুটি রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ রুহুল আমিন জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন ৩ আগস্ট তারিখে তৎকালীন সরকারের জুলাই গণহত্যার সমর্থনে প্রকাশ্যে মিছিলে অংশগ্রহণ করেন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত সহিংসতার প্রতি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন জানান যার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে আরও জানা গেছে যে, তিনি অতীতে রাজনৈতিকভাবে ফ্যাসিবাদী অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং জুলাইয়ের গণহত্যার সাথে জড়িত কিছু নেতাকে নিজ আশ্রয় দিয়ে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার পরিপন্থী আচরণ করেছেন এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এমন অভিযোগে অভিযুক্ত একজন কর্মকর্তা এখনও প্রশাসনিক দায়িত্বে বহাল থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরপেক্ষ চরিত্র ও মুক্তচেতা ঐতিহ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং জুলাই গণ অভ্যুত্থানের শহিদদের খুনীদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শহিদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা।
আরও উদ্বেগজনক যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অবগত থাকা সত্ত্বেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি- যা প্রশাসনিক ন্যায় ও স্বচ্ছতা সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করছে।
এছাড়া এতে বলা হয়, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বরাবরই গণতন্ত্র, মানবিক মূল্যবোধ ও স্বাধীন চিন্তার প্রতীক। এই প্রতিষ্ঠান কখনোই পক্ষপাতদুষ্টতা বা ফ্যাসিবাদী চিন্তার আশ্রয়স্থল হতে পারে না’
উপর্যুক্ত প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে নিম্নলিখিত দাবি পেশ করা হয়-
ট্রেজারার অফিসে কর্মরত ডেপুটি রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ রুহুল আমিনকে অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করতে হবে।জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন সময়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যারা তৎকালীন সরকারের চালানো গণহত্যার পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছিলেন- তাদের প্রত্যেককে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পক্ষে রিয়াদুল ইসলাম (যুবাহ), রাহাত খান, আমিন আহসান, রাফি ছাড়াও আরো বেশ কিছু ছাত্রনেতা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা প্রদান করতে আশ্বস্ত করেন।
মন্তব্য করুন
