শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইয়াসিনের আঙুল কাটা নিয়ে তোলপাড়, তদন্তে ডাকসুর সর্ব মিত্র

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৫, ১০:২৬ পিএম
ঢাবি শিক্ষার্থী মমিতুর রহমান পিয়াল ও ডাকসু সদস্য সর্ব মিত্র চাকমার সঙ্গে ইয়াসিন ও তার ছোট ভাই আলিফ
expand
ঢাবি শিক্ষার্থী মমিতুর রহমান পিয়াল ও ডাকসু সদস্য সর্ব মিত্র চাকমার সঙ্গে ইয়াসিন ও তার ছোট ভাই আলিফ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় ফুল বিক্রি করা এক শিশুর আঙুল কেটে দিয়েছে অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তি। গাড়ির কাচে ঢিল ছোড়ার সন্দেহে এ বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এমনই এক পোস্ট শেয়ার করেছিলেন ঢাবি শিক্ষার্থী মমিতুর রহমান পিয়াল।

পিয়াল তার পোস্টে লিখেন, ''ছেলেটার নাম ইয়াসিন, টিএসসিতে ফুলের মালা-চকলেট এগুলো বিক্রি করে। সেই সুবাদেই ওকে চিনি আমরা। টিএসসিতে দূর থেকে দেখলেই দৌড়ে কাছে চলে আসে। সন্ধ্যায় হল থেকে টিএসসিতে এসে রিকশা ভাড়া দেওয়ার সময় দেখি ডাসের পাশে বসে ও একা উচ্চস্বরে কান্নাকাটি করতেছে। যেহেতু চিনি ওকে, কাছে যেয়ে জিজ্ঞাসা করতেই ওর হাত দেখায়। খুব বাজেভাবে ওর হাতের একটা আঙুল কাটা। কিভাবে কি হলো জিজ্ঞাসা করতেই বলল কে যেন একটা গাড়ির গ্লাসে ঢিল মেরেছে, গাড়ির লোকরা ভেবেছে ও মেরেছে। তাই গাড়ি থেকে নেমে ওর হাত এত বাজেভাবে কেটে দিয়েছে। টিএসসির মতো জায়গায় এই কাজ কিভাবে সম্ভব আমার মাথায় ই আসে না৷ তার উপর মানুষগুলো কতটা পশুর কাতারে গেলে এমন কাজ করা সম্ভব হয় সেটাই ভাবি! একটা গাড়ির কাচের দাম কত হইলে একটা শিশুর আঙুল এভাবে কেটে দেওয়া যায়! এই সমাজে এত ঘৃণ্য সব মানুষের সাথে বসবাস করতে হয়, চিন্তা করতেই কেমন যেন লাগে৷''

পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামীম সহ কয়েকজনের সহযোগিতায় শিশুটির চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রের ব্যবস্থা করা হয়।

এদিকে ইয়াসিনের আঙুল কাটার ঘটনার বিস্তারিত জানতে ইয়াসিনকে খুঁজে বের করেন ডাকসু সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা। প্রক্টোরিয়াল বডির সাহায্যে ইয়াসিন, তার ছোট ভাই আলিফ আর মা ডাকসুতে এনে জানতে চান ঘটনা। আর এর পরেই বেড়িয়ে আসে আসল সত্য।

পরে ডাকসু সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা এক ফেসবুক পোস্টে তুলে ধরেন সেদিন কি হয়েছিলো ইয়াসিনের সঙ্গে তার বিস্তারিত। তিনি তার পোস্টে লিখেন-

"ইয়াসিনের আঙুল কেটে যাওয়ার ঘটনাটা বিস্তারিত জানতে ইয়াসিনকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি। প্রক্টোরিয়াল বডির সাহায্যে ইয়াসিন, তার ছোট ভাই আলিফ আর মা ডাকসুতে আনলাম।

ইয়াসিনের হাসিটা চমৎকার, সাথে তার কথা বলার ধরণও বেশ বুদ্ধিদীপ্ততার ইঙ্গিত দেয়। ডাকসুতে আসার সময় একটা পেস্ট্রি নিয়ে এসেছি ইয়াসিনের জন্য, ওকে পেস্ট্রি খেতে দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "ইয়াসিন, আমাকে বলো তো ঘটনাটা কী?"

মূলত, ডাচে আমাদের সংস্কার কাজ চলছে। সেখানে সিমেন্টের গাড়িতে আঙুল ঢুকিয়েছিল, ফলস্বরূপ আঙুলটা কেটে যায়।

মায়ের বকুনি থেকে বাঁচতে সে বলেছে, " একটা প্রাইভেট কারে ঢিল মারার অভিযোগে তার আঙুল কেটে দেয়।"

বলেছি মিথ্যা যেন না বলে। ওর কারণে দেশ তোলপাড়, হাসি দিয়ে বলে সে জানে , ফেসবুকে ওকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

যাই হোক, ছেলেটা ক্লাস টু'তে পড়ে। একটু দুষ্টু, পুরো দেশ কাঁপিয়ে দিয়েছে রীতিমতো! ওর জন্য দোয়া রাখবেন...."

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন