শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাবিতে প্রাণীকল্যাণ আইন প্রয়োগের দাবি শিক্ষার্থীদের

জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৩৬ পিএম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
expand
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পথপ্রাণীদের ওপর নির্যাতন ও অপসারণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি হল থেকে ১৮টি বিড়াল অপসারণের অভিযোগ ওঠে, যার মধ্যে মাত্র একটি প্রাণে বেঁচে আছে বলে জানা গেছে। এছাড়া, বিড়ালকে হলের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া এবং অণ্ডকোষ কেটে দেওয়ার মতো নিষ্ঠুর ঘটনারও তথ্য মিলেছে।

রবিবার (১৬ অক্টোবর) এ প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে লিখিত আবেদন দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, যেখানে তারা প্রাণীকল্যাণ আইন ২০১৯-এর যথাযথ প্রয়োগ ও ক্যাম্পাসে পথপ্রাণীদের সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি জানান।

আবেদনে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেছেন, প্রাণীকল্যাণ আইন ২০১৯ অনুযায়ী মালিকবিহীন প্রাণী অপসারণ বা নিধন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই আবাসিক হলে প্রাণী পালনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মালিকানাবিহীন প্রাণীর ক্ষেত্রে সহিংস বা আইনি পরিপন্থী পদক্ষেপ নেওয়া অনুচিত। তারা পথপ্রাণীদের প্রতি সহমর্মিতা ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি পেশ করা হয়...

১. বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে থাকা মালিকানাবিহীন পথপ্রাণী ও বন্যপ্রাণীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সহাবস্থান নিশ্চিতকরণে নীতিমালা প্রণয়ন; ২. দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাসে কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা; ৩. মালিকবিহীন প্রাণীদের বন্ধ্যাত্বকরণের উদ্যোগ নেওয়া এবং তা প্রাণী অধিকার কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন; ৪. বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে জলাতঙ্ক টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করা।

শিক্ষার্থীরা জানান, মানুষ-পথপ্রাণীর দ্বন্দ্ব নিরসনে অপসারণ একটি অকার্যকর পদ্ধতি হিসেবে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। কারণ শূন্যস্থানে নতুন প্রাণী আসবেই। কাজেই টিকাদান ও বন্ধ্যাত্বকরণই টেকসই সমাধান।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসের ১০০% কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকার আওতায় আনা হয়েছে এবং ৮০% কুকুরকে বন্ধ্যাত্বকরণ সম্পন্ন করা হয়েছে। একইসঙ্গে গত ১০ অক্টোবর মেয়েদের হলগুলোর ৯৫% বিড়ালকে জলাতঙ্ক টিকা দেওয়া হয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন