সোমবার
২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যরাতে আপত্তিকর অবস্থায় ডরমেটরিতে আটক কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থী

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
মধ্যরাতে আপত্তিকর অবস্থায় ডরমেটরিতে আটক কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থী
expand
মধ্যরাতে আপত্তিকর অবস্থায় ডরমেটরিতে আটক কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থী

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক ডরমেটরিতে সঙ্গীত বিভাগের এক কর্মকর্তার সাথে একই বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীকে আপত্তিকর অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপককে আহ্বায়ক করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্যের এক তদন্ত কমিটি গঠন করে। শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্তে তন্দন্ত চলাকালীন অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত ও অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের থেকে জানা যায়, ২৬ এপ্রিল (রবিবার) দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিউলিমালা হল সংলগ্ন সন্ধ্যাতারা ডরমেটরিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তা ডেমনেস্ট্রেটোর (তবলা) দীপংকন সেনগুপ্তর সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে কয়েকজন শিক্ষার্থী তার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। এ সময় অভিযুক্ত কর্মকর্তা এবং একই বিভাগের ১৬ ব্যাচের এক নারী শিক্ষার্থীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান তারা।

পরে শিক্ষার্থীরা তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় নারী শিক্ষার্থীকে এত রাতে সেখানে কেন এসেছেন জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই কর্মকর্তা জানান, ‘তাকে তবলা বাজানো শেখাতে নিয়ে আসা হয়েছে।’ পরবর্তীতে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হলে প্রক্টর ও কয়েকজন শিক্ষকের উপস্থিতিতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে লিখিত নিয়ে নারী শিক্ষার্থীকে শিউলীমালা হলে হেফাজতে নেওয়া হয়।

ঘটনার পরপরই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেক শিক্ষার্থী এ ঘটনাকে কেবল ব্যক্তিগত অনৈতিকতা হিসেবে না দেখে প্রাতিষ্ঠানিক নৈতিকতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন হিসেবেও দেখছেন। অন্যদিকে, স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সঠিক তথ্য উদঘাটনের দাবি জানান।

ঘটনার অধিকতর তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। রেজিস্ট্রার কর্তৃক স্বাক্ষরিত তদন্ত কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায় নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন