শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই প্রজন্ম যতদিন বেঁচে থাকবে, বাংলাদেশ কখনো পথ হারাবে না: ভিপি সাদেক

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:৫৩ পিএম আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:৫৪ পিএম
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
expand
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের অংশীদার প্রজন্ম বাংলাদেশের যে প্রান্তে অবস্থান করুক আমাদের সকলের লক্ষ্য ও চিন্তা একই সূতায় গাঁথা, মতাদর্শের ভিন্নতা বা রাজনৈতিক দল আলাদা হতে পারে কিন্তু বাংলাদেশ প্রশ্নে, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অখন্ডত্বের প্রশ্নে, জুলাইয়ের প্রশ্নে, শিক্ষার অধিকার নিশ্চিতের প্রশ্নে, ইনসাফের প্রশ্নে আমরা সবাই এক আছি।

এই প্রজন্ম যতদিন বেঁচে থাকবে, বাংলাদেশ কখনো পথ হারাবে না। এবং আমাদের শহীদরা যে জন্য জীবন দিয়েছে, যে বিপ্লবের জন্য জীবন দিয়েছে সেই বিপ্লব পূর্ণাঙ্গ না হওয়া পর্যন্ত থামবো না।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় স্থানে শাখা ছাত্রশিবিরের ‘চায়ের আড্ডায় ডাকসু ভিপি’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

জুলাই ও ইনসাফের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকার অহ্বান করে সাদেক কায়েম বলেন, আমরা প্রত্যেকে আবু সাইদ, শহীদ ওয়াসিম, শহীদ তাহের, শান্ত, আলী রায়হানের উত্তরসূরি হয়ে সবসময় জাগ্রত থাকবো।

এখানকার ভাই বোনরা সেই ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। ইনসাফের পক্ষে লড়াই করে জুলাই যোদ্ধারা সবাইকে নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কিভাবে নেতৃত্ব দিয়েছে, আমরা দেখেছি। নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের ও আধিপত্যবাদের কোন ঠিকানা হবে না।

বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করার জন্য শহীদ ভাই-বোনেরা জীবন দিয়েছে। সেই বাংলাদেশ বিনির্মাণ না হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রত্যেকে লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাবো।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে ভিপি সাদেক কায়েম বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক রক্তাক্ত ইতিহাস আছে। অনেক মজলুমের কান্না ও হাজারো স্মৃতি আছে। খুনি হাসিনা অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে ক্যাম্পাসগুলোকে টার্গেট করেছিল তার মধ্যে ছিল ইবি। আমাদের অসংখ্য ভাই বোনদেরকে রাতের আধারে নির্মম নির্যাতন করেছে।

তাদেরকে মেরে মামলা দিয়ে থানায় দেওয়া হয়েছে, পরিবারকে হেনস্তা করা-সহ শিক্ষাজীবনকে বিনষ্ট করার জন্য শত আয়োজন করেছিল। আমাদের সকলের প্রিয় ওয়ালীউল্লাহ ও মুকাদ্দাস ভাই এখনো আমাদের মাঝে ফেরেনি।

সাদেক কায়েম বলেন, ওয়ালীউল্লাহ ও মুকাদ্দাস ভাই এখনো আমাদের মাঝে ফেরেনি। খুনি হাসিনার পেটোয়া বাহিনী তাদেরকে গুম করেছে। আমাদের মজলুম মা-বাবারা তাদেরকে খুঁজছে। আল্লাহর কাছে দোয়া করছি আমাদের ভাইকে দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন ফিরে দিন।

এই গুমের সাথে যারা জড়িত ছিল খুনি হাসিনা ও তার দোসররা এবং এই বাংলায় খুনি হাসিনার ফ্যাসিবাদী কর্মকান্ডকে যারা প্রতিষ্ঠা করতে সহযোগিতা করেছিল। আমরা স্বাধীন বাংলাদেশে এই সকল ফ্যাসিস্টকে দেখে নিবো ইন শা আল্লাহ।

ছাত্রসংসদ নির্বাচন নিয়ে সাদেক কায়েম বলেন, ডাকসু নির্বাচনে যারা নির্বাচন করেছি সবাই আমরা জুলাইয়ের সহযোদ্ধা। এখানে জয় কিংবা পরাজয়ের কিছু নাই। ডাকসু নির্বাচনের মধ্যমে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার বিজয় হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার বিজয় হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হবে এবং এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আমরা বাধ্য করবো। শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার নিয়ে কথা বলবে। বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমরা একসাথে কাজ করবো।

জাতির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সাদেক কায়েম বলেন, আমাদের (বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী) দিকে পুরো জাতি তাকিয়ে আছে। আমরা যেন আমাদের আগামীর বাংলাদেশের জন্য গড়ে উঠতে পারি। বিগত সময়ে ফ্যাসিস্টরা বড় বড় জায়গায় বসে দুর্নীতি, রাহাজানিসহ নানা ধরনের অপরাধ করেছে অর্থাৎ মানুষের ক্ষতির কারণ হয়েছে যার ফলাফল আজ পালিয়ে যেতে হয়েছে।

ভবিষ্যতে আর কেউ যেন ফ্যাসিস্ট হতে না পারে, কেউ যেনো মানুষের উপর জুলুম করতে না পারে পাশাপাশি আমরা যেন নৈতিকভাবে নিজেদেরকে শক্তিশালী করি এবং আধ্যাত্মিক জায়গায় সবচেয়ে বেশি হতে হবে

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, ডাকসু কার্যনির্বাহী সদস্য রায়হান উদ্দিন, ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি রেজাউল করিম শাকিল, শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান, সেক্রেটারি ইউসুব আলীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন