রবিবার
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩৬ বছরে পদার্পণ করলো শাবিপ্রবি 

নাদির আহমেদ, শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
expand
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

আজ পহেলা ফাল্গুন। প্রকৃতি জুড়ে বসন্তের রঙ। এই উৎসবের দিনেই ৩৫ বছর পূর্ণ করল দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উচ্চ শিক্ষালয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)। দীর্ঘ পথচলা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়টি পা দিল ৩৬তম বছরে।

১৯৯১ সালের এই দিনে যাত্রা শুরু করেছিল শাবিপ্রবি। শুরুটা ছিল মাত্র তিনটি বিভাগ, ১৩ জন শিক্ষক এবং ২০৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ছোট্ট পরিসর বিস্তৃত হয়েছে।

এখন শাবিপ্রবিতে ৭টি অনুষদের অধীনে রয়েছে ২৮টি বিভাগ ও দুটি ইনস্টিটিউট। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দিনের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর আয়োজন করা হয়েছে আনন্দ শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা এবং কেক কাটার কর্মসূচি।

শাবিপ্রবির দীর্ঘ পথচলায় শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি প্রযুক্তি উদ্ভাবনেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য অর্জন। বিশ্ববিদ্যালয়টির ঝুলিতে রয়েছে ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড অ্যাওয়ার্ড-২০১৭’।

২০১৮ সালে ‘নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জে’ অংশ নিয়ে শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা ‘বেস্ট ডাটা ইউটিলাইজেশন’ ক্যাটাগরিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। প্রযুক্তিখাতে অবদানের জন্য প্রতিষ্ঠানটি পেয়েছে ‘ডিজিটাল ক্যাম্পাস অ্যাওয়ার্ড-২০২০’।

এ ছাড়া শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই তৈরি হয়েছে দেশের প্রথম বাংলা সার্চ ইঞ্জিন ‘পিপীলিকা’, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ‘একুশে বাংলা কিবোর্ড’, কথা বলা রোবট ‘রিবো’, হাঁটতে সক্ষম রোবট ‘লি’, চালকবিহীন ড্রোনসহ নানা উদ্ভাবন।

শাবিপ্রবির অর্জন শুধু ক্যাম্পাসেই সীমাবদ্ধ নয়। এখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করা অনেক শিক্ষার্থী এখন দেশ-বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ করছেন।

তাঁদের মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও সৃজনশীলতার ধারাবাহিকতায় শাবিপ্রবি ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছে দেশের উচ্চশিক্ষার একটি উল্লেখযোগ্য নাম।

ডিজিটাল সেবায় এগিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠান

শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আধুনিক সেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমেও এগিয়েছে শাবিপ্রবি। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছিল মোবাইল ফোন দিয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া, ই-পেমেন্টের মাধ্যমে সেমিস্টার ফি প্রদান, অনলাইন ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থা, ডি-নথির মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও সাপোর্ট সার্ভিস সিস্টেম ইত্যাদি।

অবকাঠামো উন্নয়ন ও আবাসন সংকট মোকাবিলা

বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজও চলমান রয়েছে। বর্তমানে সাতটি একাডেমিক ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য তিনটি করে মোট ছয়টি আবাসিক হল রয়েছে।

তবে আসন সংকট কাটাতে ছেলে-মেয়েদের জন্য এক হাজার আসন বিশিষ্ট দুটি নতুন আবাসিক হল নির্মাণের কাজ চলছে। এছাড়া ছোট-বড় ১৭টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬বছরের পদার্পণ উপলক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে সুনামের সাথে এগিয়ে চলেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব সংকট রয়েছে, আমরা সেগুলো নিয়ে কাজ শুরু করেছি।

শাবিপ্রবিকে আমরা গবেষণামুখী ও পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। সেই লক্ষে আমরা ১৩ বিভাগ ও ১টি ইন্সটিটিউট চালু করার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল করার পরিকল্পনাও রয়েছে।’

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X