বৃহস্পতিবার
২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে শিল্পমুখী করতে রাবিতে প্রথম ‘ইনকিউবেশন হাব’ চালু

রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২৬ এএম
রাবিতে প্রথম ‘ইনকিউবেশন হাব’ উদ্বোধন
expand
রাবিতে প্রথম ‘ইনকিউবেশন হাব’ উদ্বোধন

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাকে শিল্পমুখী করে উদ্যোক্ত সৃষ্টি ও দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে দেশকে স্বনির্ভর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এই প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে ‘ইনকিউবেশন হাব’।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের মলিকুলার বায়োলজি অ্যান্ড প্রোটিন সায়েন্স ল্যাবরেটরি (MBPSL)-এর উদ্যোগে এই ইনকিউবেশন হাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

শনিবার (৭ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে ইনকিউবেশন হাবের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব ও মলিকুলার বায়োলজি অ্যান্ড প্রোটিন সায়েন্স ল্যাবরেটরি ইনকিউবেশন হাবের মূখ্য গবেষক অধ্যাপক ড. মো. আবু রেজা।

ইনকিউবেশন হাব নতুন উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপদের জন্য একটি সহায়ক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। এখানে নতুন ব্যবসায়িক ধারণাগুলো ধীরে ধীরে বাস্তব রূপ পাবে এবং টেকসই প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে উদ্ভাবনভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরিতে ইনকিউবেশন হাবের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

উদ্বোধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি করে মার্কেটের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে এই ইনকিউবেশন হাব একটি গুরুত্বপূর্ণ মডেল হিসেবে কাজ করবে। বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। রাবিতে প্রফেসর আবু রেজার নেতৃত্বে এই ল্যাবের যাত্রা শুরু হলো।

আমরা আশা করছি, এই ল্যাব দেখে এক বছরের মধ্যে আরও অনেক ল্যাব তাদের কাজ শুরু করবে। ল্যাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

ইনকিউবেশন হাবের মূখ্য গবেষক অধ্যাপক ড. মো. আবু রেজা বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গবেষণাগুলোকে শিল্পমুখী করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেসব পণ্য দেশে উৎপাদিত হয় না, সেগুলো দেশেই উৎপাদন ও বাজারজাত করাই তাদের লক্ষ্য।

এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেমন হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ পাবে, তেমনি একটি কোম্পানি কীভাবে গড়ে তুলতে হয় সে সম্পর্কেও বাস্তব ধারণা লাভ করবে।

তিনি আরও বলেন, বায়োটেকনোলজির যেসব পণ্য বাংলাদেশের শত শত ল্যাবে ব্যবহার হচ্ছে, তার প্রায় সবই বিদেশ থেকে আমদানি করা। অথচ এসব পণ্য দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব। ইতোমধ্যে ৮টি পণ্য তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে এসব গবেষণাকে ইনকিউবেশন হাবে উন্নয়ন করা হবে। পরবর্তীতে কোম্পানিগুলো ফান্ডিং করলে সেগুলো বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করা হবে।

তিনি জানান, গবেষণাগারগুলোকে টেকসই করার ক্ষেত্রে ইনকিউবেশন হাব একটি কার্যকর মডেল হিসেবে কাজ করবে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এখনও মূলত সার্টিফিকেটনির্ভর। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ে অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী রয়েছে, যাদের মেধা কাজে লাগিয়ে দেশেই বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদন সম্ভব।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ইনকিউবেশন হাবে উৎপাদিত পণ্যগুলো প্রথম পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি, বায়োকেমিস্ট্রি ও ফার্মাসিউটিক্যাল বিভাগে বিনামূল্যে সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন মজুমদার, আইকিউএসি’র অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন ও অধ্যাপক ড. মো. মনিমুল হক, ইনকিউবেশন হাব'র সহযোগী গবেষক ড. খন্দকার মো. খালিদ-বিন-ফেরদৌস, ইনভেন্ট টেকনোলজি লিমিটেড-এর ব্যবস্থপণা পরিচালক মো. রেজাউল হালিম ও মহাব্যবস্থাপক শেখ মো. সেলিম আল-দিন সহ অন্যান্যরা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন