

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


শরীফ ওসমান হাদী ভাইয়ের হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরকে গুলিবিদ্ধ এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রশক্তি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে অদম্য চব্বিশের সামনে এসে শেষ হয়।
এরপর সংক্ষিপ্ত সমাবেশ বক্তারা আজকের এই হামালর নিন্দা জানান। সেই সাথে অবিলম্বে হাদি হত্যার বিচার দাবি করেন।
এসময় জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি শাখার সাধারন সম্পাদক নাদিয়া রহমান অন্বেষা বলেন, এই রকম কোনো এক শুক্রবারে হাদি ভাইকে গুলি করা হয়, তার কিছু দিন পরে শাহাদাত বরন করেন। আমাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ প্রতিবাদ দেখিয়েছি, হাদি ভাইয়ের উপর হামলা ও তার পরে মৃত্যুর পর আমরা ইন্টেরিমের কাছে আমাদের দাবি হাদি ভাইয়ের বিচার যাতে দ্রুত করে তা পেশ করেছি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যখন নির্বাচনি প্রচারনা করেছিল, ইনকিলাব মঞ্চ দেখল হাদি ভাইয়ের হত্যার বিচার প্রলম্বিত করার চেষ্টা করতেছে তখন তারা যমুনা ঘেরাও করার হলে রাষ্ট্রীয় বাহিনী হাদী ভাইয়ের সমর্থকের উপর বিশেষ করে আব্দুল্লাহ আল জাবের উপর হামলা করে। আমরা আশা করেছিলাম বাংলাদেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর হবে কিন্তু ইন্টেরিম শেষ সময়েও বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে পারলো না।
এসময় ছাত্রশক্তি জাবি শাখার সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, “হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চ গতকাল থেকে যমুনায় অবস্থানকালে সেই হাসিনা স্টাইলে পুলিশের হামলা চালানো হয়েছে, সেই হামলায় আমাদের অর্ধশত ভাই-বোন রক্তাক্ত হয়ে হাসপাতালে সেই ব্যথায় এখন কাতরাচ্ছে। আমরা এই হাসিনা স্টাইলের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তার ই অংশ হিসাবে আমরা আজকের বিক্ষোভ মিছিলের পরবর্তী অংশ হিসাবে জাতীয় ছাত্রশক্তি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা অবস্থান নিয়েছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আমাদের ভাইয়েরা, জুলাইয়ের ভাইয়েরা, হাদি হত্যার বিচারে রাজপথে আন্দোলন করছে, তাদের যে দাবি সেই দাবির সঙ্গে আমরা একাত্মতা প্রকাশ করছি।”
তিনি আরও বলেন, "আমরা মনে করছি ওসমান হাদি ভাইয়ের যে হত্যার তদন্ত, সেই তদন্ত রাষ্ট্র কোনো ভাবেই করতে পারবে না। রাষ্ট্র যে চার্জশীট দিচ্ছে, সেই চার্জশীটে রাষ্ট্র যাদেরকে আইডেন্টিটিফাই করার চেষ্টা করেছিল সেই আওয়ামীলীগ নেতার নাম এই চার্জশীটে নেই। তাই আমরা মনে করছি রাষ্ট্র একটা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত প্রক্রিয়া করতে পারবে না, যার ই অংশ হিসাবে আমাদের ইনকিলাব মঞ্চের ভাইয়েরা দাবি জানিয়েছিলো এই তদন্ত প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিকভাবে হতে হবে এবং সেটা অবশ্যই জাতিসংঘের অধীনে হতে হবে। জুলাইয়ের পূর্বে হাসিনা তার পালিত কুকুর দিয়ে ছাত্রজনতার উপর যেভাবে হামলা চালিয়েছে, ড. ইউনুছও সেই একই স্টাইলে আমাদের ভাইদের হামলা চালিয়েছে। তাই আমরা মনে করছি ইউনুছও হাসিনার মতো হওয়ার চেষ্টা করতেছে। ইউনুছকে মনে করিয়ে দিতে চাই, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে ছাত্রজনতা অনেক আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আপনাদের ক্ষমতায় বসিয়েছে কিন্তু আপনি সেই আশা আকাঙ্ক্ষা কোনো কিছুই বাস্তবায়ন করেননি, বিনিময়ে আপনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে নেগোসিয়েশন করেছেন,তাদের খুশি করেছেন।”
মন্তব্য করুন
