

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) মসজিদ কমিটির উদ্যোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, তিনবারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় দু‘আ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) জুমার নামাজ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এ দু‘আ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
দু‘আ মাহফিলের পূর্বে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, খালেদা জিয়ার অবদান ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কল্পনা করা যেত না।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন মহিয়সী ব্যক্তিত্ব, যার কর্মময় জীবনের সংক্ষিপ্ত বর্ণনাও সহজসাধ্য নয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তিনি ছিলেন সততা, ঐক্য ও দৃঢ়তার প্রতীক এবং আপসহীন সংগ্রামের নেত্রী। দেশ ও জাতির জন্য তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনীতিতে যে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছিল, তা দূর করে ঐক্যের পথে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার যে প্রক্রিয়া শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন, সেই প্রক্রিয়াকে বেগম খালেদা জিয়া দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে নিয়েছিলেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার আজীবন তাঁকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে এক মহাকালের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। একজন সাধারণ গৃহবধু থেকে জাতির অভিভাবক হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ ছিল বিরল দৃষ্টান্ত।
জীবনের অল্প বয়সেই স্বামীকে হারানোর বেদনা সত্ত্বেও তিনি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামে অবতীর্ণ হন এবং দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে নেতৃত্ব দেন। এক-এগারোর মতো কঠিন সময়েও তিনি এ দেশের মাটি ও মানুষকে ছেড়ে যাননি। ব্যক্তিজীবনে অসীম ত্যাগ স্বীকার করে তিনি দেশের মানুষের কল্যাণকে সর্বাগ্রে স্থান দিয়েছেন। তাঁর দৃঢ়তা, ত্যাগ ও দেশপ্রেম জাতির জন্য চিরন্তন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
এসময় জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করা একজন রাষ্ট্রনায়ক। তাঁর জানাযায় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে তিনি সমগ্র জাতির নেত্রী ছিলেন।
এছাড়াও বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক। সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্বটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ শেখ গিয়াস উদ্দিন। দু‘আ মাহফিল পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সিনিয়র পেশ-ইমাম-কাম-খতিব মোঃ ছালাহ্ উদ্দিন।
এসময় মহিলাদের জন্য নির্ধারিত নামাজের স্থানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন। এছাড়া বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, পরিচালক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিক প্রতিনিধিসহ অনেকেই দু‘আ মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।
মন্তব্য করুন
