

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পোষ্য কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে শিক্ষকরা।
এর অংশ হিসেবে আগামীকাল রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করবেন তারা।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার পর এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন রাবির জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল আলীম।
এ সময় তিনি বলেন, আজকের লাঞ্ছনার এই ঘটনা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন বানচালের অংশ বলে মনে করছি আমরা। তাই এই লাঞ্ছনার ঘটনা জড়িত শিক্ষার্থীদের বিচার ও ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে আগামীকাল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষক সমাজ পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করবে। এতে শিক্ষকরা ছাড়াও কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেবে। এ ঘটনার সুস্ঠু বিহীত না হলে পরবর্তীতে তাদের কর্মসূচি চলমান থাকবে বলে এ সময় তিনি ঘোষণা দেন।
এর আগে শনিবার দুপুরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে টায়ারে আগুন দেয়। এরপর বিকেল সাড়ে ৩টায় তারা উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে। এসময় তারা উপ-উপাচার্যের গাড়ি আটকায়।
পরে শিক্ষার্থীরা উপ-উপাচার্য মাইন উদ্দিন এর বাসভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এতে তিনি তার বাসভবনে প্রবেশ করতে না পেরে পরবর্তীতে মাইন উদ্দিন এবং প্রক্টর মাহবুবর রহমান জুবেরি ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে তখন ফের বাধার সম্মুখীন হয়। এসময় কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষক, উপ-উপাচার্যের সাথে শিক্ষার্থীদের ধস্তাধস্তি হয়।
এই ধ্বস্তাধস্তিতে শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থী ও উপ উপাচার্য জুবেরি ভবনের ভেতরে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।
এসময় সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, আমি মার খেলেও, আমার কারও উপর কোন অভিযোগ নেই। কিন্তু পোষ্য কোটা নামেই হোক বা অন্য নামেই হোক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কোন ধরনের পোষ্য কোটা থাকবে না। প্রয়োজনে আমরা আমাদের জীবন দিয়ে দেব।
এ ব্যাপারে প্রক্টর মাহবুবর রহমান বলেন, পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা উপ-উপাচার্য স্যারকে অবরুদ্ধ করে তাঁর বাসায় তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে আমরা জুবেরী ভবনের লাউঞ্জে বসি। সেখানে শিক্ষার্থীরা আবারও আমাদের বাধা দেয়। আমরা ফিরে গিয়ে পুনরায় আসার পর ভবনে ঢোকার চেষ্টা করলে তারা আবারও বাধা দেয়। এসময় ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। ধাক্কাধাক্কির মধ্যেই আমার হাতের ঘড়ি ও সঙ্গে থাকা ১০,০০০ টাকা হারিয়ে যায়। ধাক্কাধাক্কি হতে পারে, কিন্তু আমার হাতের ঘড়ি ও ১০ হাজার টাকা হারিয়ে যাওয়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়।
মন্তব্য করুন