

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) মাত্র একজন প্রার্থীকে নিয়ে শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগের জন্য এ বোর্ডের সভা আহ্বান করা হয়েছে। একই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বোটানি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগের জন্য গত ১৫ জুলাই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আবেদন আহ্বান করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে মাত্র একজন প্রার্থীকে নিয়োগ পরীক্ষার জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। ওই একমাত্র প্রার্থীকে নিয়েই আগামী রোববার নিয়োগ বোর্ড বসানোর আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মাত্র একজন প্রার্থীকে নিয়ে নিয়োগ বোর্ড আয়োজনের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষকদের একটি অংশ।
তাদের অভিযোগ, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিক যোগ্য প্রার্থীর মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে সর্বোচ্চ যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচনের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। কিন্তু মাত্র একজন প্রার্থীকে নিয়ে বোর্ড বসানো হলে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যায়নের সুযোগ থাকে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক বলেন, মাত্র একজন প্রার্থীকে নিয়ে কোনোভাবেই নিয়োগ বোর্ড বসানো উচিত নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিক প্রার্থীর মধ্য থেকে যোগ্যতম ব্যক্তিকে বাছাই করার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। এখানে মাত্র একজন প্রার্থী থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়াটি কতটা প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ, সেটিই প্রশ্নের বিষয়।
তিনি আরও বলেন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী একাধিক প্রার্থী ছাড়া নিয়োগ বোর্ড না বসানোর একটি রীতি রয়েছে। অন্তত তিনজন প্রার্থী থাকা প্রয়োজন। কিন্তু এখানে মাত্র একজন প্রার্থীকে নিয়েই বোর্ড আয়োজন করা হচ্ছে। এতে মনে হচ্ছে, নির্দিষ্ট একজনকে নিয়োগ দেওয়ার জন্যই পুরো প্রক্রিয়াটি আয়োজন করা হয়েছে।
এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আবার একই দিনে সকালে নিয়োগ বোর্ড এবং পরে সিন্ডিকেট সভা থাকায় বিষয়টি নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বোর্ডে সুপারিশ করে তড়িঘড়ি করে তা সিন্ডিকেটে অনুমোদনের জন্য নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (টিচিং) ড. বি. এম. কামরুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের বিষয়ে মুঠোফোনে কথা বলা যায় না। আমাদের অফিসে আসেন, সেখানে বসে কথা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান বলেন, একজন নয়, আবেদন করেছিলেন চারজন। কিন্তু বাকিরা শর্ত পূরণ করতে পারেননি বিধায় মনে হয় একজনকে ডাকা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত ডেপুটি রেজিস্ট্রার (টিচিং) ড. বি. এম. কামরুজ্জামান বলতে পারবেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।



