

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা, ১৫০০ টাকার চিকিৎসা ভাতা এবং কর্মচারীদের জন্য উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশে উন্নীত করার দাবিতে টানা পাঁচ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীরা।
দাবি পূরণ না হলে আজই তারা যমুনা ভবনের দিকে পদযাত্রার (‘মার্চ টু যমুনা’) কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক হাজার আন্দোলনকারী শিক্ষক ও কর্মচারী সেখানে জড়ো হয়েছেন। তারা বিভিন্ন দাবিসংবলিত স্লোগানে মুখরিত করে তুলেছেন শহীদ মিনার এলাকা।
শ্লোগানে উঠে এসেছে—২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া, দিতে হবে দিতে হবে, বাংলার শিক্ষক, এক হও এক হও “শিক্ষকদের সঙ্গে প্রহসন, মানি না মানি না”
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, যদি বৃহস্পতিবারের মধ্যে দাবি পূরণের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসে, তবে তারা পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী দুপুরেই প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে লং মার্চ শুরু করবেন।
এ পদযাত্রাকে তারা ‘মার্চ টু যমুনা’ নামে অভিহিত করেছেন।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের বাড়িভাড়া ভাতা ১০ শতাংশে উন্নীত করার একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীরা এই প্রস্তাবকে অগ্রহণযোগ্য ও বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেছেন।
জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের যুগ্ম সদস্যসচিব আবুল বাশার বলেন, এই প্রস্তাব আমাদের দাবি থেকে অনেক দূরে। আমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি, ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, ১৫০০ টাকা মেডিকেল ভাতা ও কর্মচারীদের ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতা না পাওয়া পর্যন্ত আমরা কর্মস্থলে ফিরছি না।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত সোমবার থেকে সারাদেশের এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
এতে দেশের বহু স্কুল-কলেজে শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে।
শিক্ষকদের ভাষ্য, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো শিক্ষাকর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন না। কর্মবিরতি চলবে লাগাতার।
আন্দোলনের সূচনা হয় গত রোববার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে। কিন্তু পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরাতে গেলে ধস্তাধস্তি এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের মতো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শিক্ষক নেতাদের পরামর্শে আন্দোলনকারীরা সেখান থেকে সরে গিয়ে শহীদ মিনারে অবস্থান গ্রহণ করেন এবং সেখান থেকেই লাগাতার কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
শিক্ষকদের বক্তব্য: “আন্দোলন নয়, ন্যায্য দাবি”
আন্দোলনরত একজন সিনিয়র শিক্ষক বলেন, আমরা আন্দোলন করছি না, আমাদের প্রাপ্য ও বাস্তব দাবি আদায়ের জন্যই রাস্তায় নেমেছি। শিক্ষকসমাজকে অবহেলা করে একটি উন্নত জাতি গড়া সম্ভব নয়।
আন্দোলনকারীদের তিনটি প্রধান দাবি:
মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা।
শিক্ষক-কর্মচারী উভয়ের জন্য ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা।
কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা।
শিক্ষকদের এ আন্দোলন সরকার কীভাবে গ্রহণ করে এবং কেমন সাড়া দেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। দাবি মানা না হলে আজ বিকেল থেকেই আন্দোলন আরও নতুন মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
