শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করলেও ক্লাসে আসেন না কয়েক বছর

সাইফুল ইসলাম সাব্বির
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:২৪ পিএম
মোঃ ইলিয়াছ আহাম্মদ
expand
মোঃ ইলিয়াছ আহাম্মদ

রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি বাঙলা কলেজ—যেখানে দুটি বিভাগে এখনও কোনো নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক নেই।

কিন্তু বিস্ময়ের বিষয়, ইংরেজি বিভাগে একজন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও তিনি বছরের পর বছর ক্লাসে অনুপস্থিত।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষক অধ্যাপক মোঃ ইলিয়াছ আহাম্মদ, যিনি কলেজের স্থায়ী শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ক্লাস না নেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

তাঁর এই অনুপস্থিতি শুধু পাঠদান ব্যাহত করছে না, বরং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎকেও অনিশ্চিত করে তুলছে।

ইংরেজি বিভাগের স্নাতক ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী তানজিল বলেন, “ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নিয়ে শিক্ষকদের আন্দোলনে হঠাৎ দেখি একজন নতুন শিক্ষক। পরে জানতে পারি, তিনি নাকি বাঙলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক! তখন মনে প্রশ্ন জাগলো—তিনি যদি আমাদের বিভাগের শিক্ষক হন, তাহলে আমি কোন বিভাগের ছাত্র?”

৩য় বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী লুৎফর রহমান ইমন বলেন, “আমি ইলিয়াস স্যারের নাম এই প্রথম শুনলাম। আমাদের বিভাগে ‘ইলিয়াস স্যার’ নামে কেউ আছেন কিনা সেটাও নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না।”

স্নাতক ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আকিদুল ইসলাম শান্ত বলেন, “দীর্ঘ ৪ বছরে আমি কোনোদিন ইলিয়াস স্যারকে ক্লাসে পাইনি। এমনকি আমাদের সিনিয়ররাও সঠিকভাবে বলতে পারে না স্যার কত বছর ধরে ক্লাসে আসেন না।”

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক মোঃ ইলিয়াছ আহাম্মদের দীর্ঘ কয়েক বছর ক্লাসে অনুপস্থিতি থাকার প্রতিবাদে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরবর্তীতে তাঁরা কলেজ অধ্যক্ষ বরাবর একটি স্বারকলিপি জমা দেন এবং তাঁর পদত্যাগের দাবি জানান।

ক্লাসে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে অধ্যাপক মোঃ ইলিয়াছ আহাম্মদ বলেন, “আমি এ ব্যাপারে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে চাই না।”

কলেজ সূত্রে জানা যায়, তিনি ক্লাসে না আসলেও নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন এবং রুটিনে তাঁর ক্লাস অন্য শিক্ষকদের দিয়ে করিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর কামরুল হাসান বলেন, “ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা আমাকে স্মারকলিপি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছে। আমরা কলেজ প্রশাসন হিসেবে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”

শিক্ষার্থীদের দাবি, একজন সরকারি শিক্ষক হয়ে বছরের পর বছর দায়িত্বে অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান ধরে রাখতে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন