বুধবার
০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাতৃত্বকালীন ছুটি নেই নোবিপ্রবিতে, ভোগান্তিতে নারী শিক্ষার্থীরা

কাউসার আহমেদ, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ১১:২৩ এএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

দেশের বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে মাতৃত্বকালীন ছুটি স্বীকৃত হলেও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বিবাহিত নারী শিক্ষার্থীদের জন্য এ সুবিধা এখনো অনেকটাই অনুপস্থিত।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) মাতৃত্বকালীন ছুটির কোনো সুস্পষ্ট নীতিমালা না থাকায় নারী শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে গিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছেন।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মদানের সময় একজন নারীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এ সময়ে নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ, পরীক্ষা দেওয়া কিংবা একাডেমিক চাপ সামাল দেওয়া অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন হয়ে পড়ে।

কিন্তু নীতিমালার অভাবে অনুপস্থিতি বাড়ে, পরীক্ষায় অংশগ্রহণে জটিলতা তৈরি হয়, এমনকি অনেকেই সেশনজটে পড়ে পড়াশোনা থেকে ছিটকে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েন।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাতৃত্বকালীন সময়ে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণের শর্ত শিথিল করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তকে উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে নোবিপ্রবিতে এখনো এমন কোনো ব্যবস্থা কার্যকর হয়নি।

এ পরিস্থিতিতে নোবিপ্রবিতে মাতৃত্বকালীন ছুটির দাবি জোরালো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘সোচ্চার স্টুডেন্টস নেটওয়ার্ক, নোবিপ্রবি চ্যাপ্টার’ এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে।

সংগঠনটির সদস্য কাইসার আহম্মদ আবিদ জানান, প্রায় এক হাজার নারী শিক্ষার্থীর মতামত নিয়ে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, গর্ভকালীন সময়ে ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক চাপ নিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা উদ্বেগজনক। তাদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবনায় সন্তান জন্মের আগে সাত সপ্তাহ ও পরে দশ সপ্তাহ মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ক্লাস, পরীক্ষা বা মূল্যায়ন প্রক্রিয়া পরে বিকল্পভাবে সম্পন্ন করার সুযোগ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

পাশাপাশি গর্ভাবস্থার পাঁচ মাস পর থেকে ক্লাস-পরীক্ষায় বাধ্য না করা, বিকল্প হিসেবে অ্যাসাইনমেন্টের ব্যবস্থা রাখা এবং উপস্থিতির ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।

এ ছাড়া ক্যাম্পাসে চাইল্ড কেয়ার সেন্টার ও ব্রেস্ট ফিডিং রুম স্থাপন এবং জরুরি প্রয়োজনে স্বল্পমেয়াদি আবাসন সুবিধা চালুর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিবিএ বিভাগের শিক্ষার্থী রেবেকা সুলতানা বলেন, মাতৃত্বকালীন সময় মা ও নবজাতকের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। এ সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পেলে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের ছুটির ব্যবস্থা জরুরি।

আরেক শিক্ষার্থী মারুফা বলেন, গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মের কারণে অনেক ছাত্রী পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। মাতৃত্বকালীন ছুটি থাকলে তারা সাময়িক বিরতি নিয়ে আবার শিক্ষাজীবনে ফিরতে পারবেন।

শিক্ষার্থী তাসনিম জান্নাত মনে করেন, মেয়েরা অনেক ক্ষেত্রে ভালো ফল করলেও উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়। প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অভাব এর একটি বড় কারণ। মাতৃত্বকালীন ছুটি এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

এ বিষয়ে নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রস্তাবনা আমরা পেয়েছি। এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা গেলে এটি স্থায়ী সমাধান হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে সরাসরি বিধান না থাকলে অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়। তবে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে যতটুকু সম্ভব, আমরা তা বিবেচনায় নেব।

মাতৃত্বকালীন ছুটির মতো একটি মানবিক সুবিধা চালু হলে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন