মঙ্গলবার
০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোটে পরাজয়ের পর বিস্ফোরক মন্তব্য মমতার

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬, ০১:১৮ পিএম আপডেট : ০৫ মে ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
expand
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় ধাক্কা খেয়েছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কলকাতার ভবানীপুর আসনেই অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের মুখে পড়েছেন তিনি। ফল ঘোষণার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এই তৃণমূল নেত্রী।

ফোনালাপে তিনি নির্বাচনকে ‘লুট’ ও ‘অনৈতিক নোংরা খেলা’ বলে অভিযোগ করেছেন। নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে ফল চ্যালেঞ্জ করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তার ফেসবুক পেজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একটি ফোনালাপ শেয়ার করেছেন। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের এই বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী ভবানীপুরের ফলাফলকে ‘চুরি করা রায়’ এবং নির্বাচন কমিশনের ‘অনৈতিক নোংরা খেলা’ বলে অভিহিত করেন।

ফোনালাপে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, ভোটগণনার ১৬তম রাউন্ড পর্যন্ত তিনি বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে এগিয়ে ছিলেন এবং তখন আর মাত্র কয়েকটি রাউন্ড বাকি ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, ‘গুণ্ডারা’ ভোটগণনা কেন্দ্রে ঢুকে কর্মকর্তা ও এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রভাবিত করেছে।

এছাড়া তিনি নির্বাচন কমিশন, সিআরপিএফ এবং স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তাদের (ডিইও ও আরও) বিরুদ্ধে দিল্লির নির্দেশে বিজেপির পক্ষে কাজ করার অভিযোগ তোলেন। তার অভিযোগের একটি বড় অংশ ছিল তৃণমূলের কাউন্টিং এজেন্টদের সরিয়ে দেয়া নিয়ে। তার দাবি, তাদের জায়গায় বিরোধী পক্ষের এজেন্ট বসানো হয়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘শেষের রাউন্ডগুলো ভবানীপুরের, যা পুরোপুরি আমাদের এলাকা। সেই সময় কয়েকজন গুণ্ডা নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাউন্টিং সেন্টারে ঢুকে আমাকে মারধর করে এবং সিআরপিএফের সহায়তায় আমার এজেন্টদের বের করে দেয়।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, শেষ রাউন্ডগুলোতে কাউন্টিং হলে তার দলের কোনও প্রতিনিধিই ছিল না এবং ইভিএম মেশিন সঠিকভাবে সিল না করেই স্ট্রংরুমে নিয়ে যাওয়া হয়। তার ভাষায়, ‘আমি হলের বাইরে ছিলাম, আমাকে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়নি’। এই পরিস্থিতিকে ‘নির্যাতন’ আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, আগে এসআইআর-এর মাধ্যমে ভোটারদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে এবং পরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে জোর করে ভোট ‘লুট’ করা হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, শেষ রাউন্ডে ইভিএম মেশিন সিল ছাড়াই সরানো হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ছিল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এটি বিজেপির জয় নয়, বরং ‘অনৈতিক খেলা’ এবং নৈতিকভাবে বিরোধীদের পরাজয়।

তিনি জানান, সবকিছু নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং আইনি লড়াই করা হবে। তিনি আরও বলেন, প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আইনজীবী হিসেবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিষয়টি জানানো হচ্ছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন