

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চাঁদাবাজি, অবৈধ অর্থ দাবি কিংবা কোনো সেবা নিতে গিয়ে আর্থিক হয়রানির ঘটনা নথিবদ্ধ করতে দেশে চালু হয়েছে নতুন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘চাঁদাবিডি ডটকম’। নাগরিকেরা চাইলে নাম-পরিচয় গোপন রেখেই এসব ঘটনার তথ্য সেখানে জমা দিতে পারবেন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্ল্যাটফর্মটি চালুর তথ্য জানানো হয়।
উদ্যোক্তাদের তথ্য অনুযায়ী, চালুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওয়েবসাইটের পাবলিক লেজারে নয়টি অভিযোগ জমা পড়ে। এসব ঘটনায় মোট ৯ লাখ ৬০ হাজার ৭০০ টাকা চাওয়া বা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে ঢাকা বিভাগ থেকে।
জমা পড়া অভিযোগগুলোর একটি টঙ্গী পৌরসভা কার্যালয়কে ঘিরে। সেখানে ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা চাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটিকে ‘জোরপূর্বক অর্থ আদায়’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও অভিযোগটির স্বাধীন যাচাই হয়নি।
মিরপুরের ৬০ ফুট এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের কাজের সময় এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে একজন রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহার করে অর্থ চাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে ওই নেতার সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টির সমাধানও হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পূর্ব শেওড়াপাড়ায় সড়ক উন্নয়নকাজের সময় পানি ও গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার পর তা পুনঃসংযোগের বিনিময়ে ১০ হাজার টাকা করে দাবির অভিযোগ রয়েছে। পল্টন এলাকায় সিটি করপোরেশনের রসিদ ব্যবহার করে প্রতি মাসে ময়লার বিলের নামে ২০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগও জমা পড়েছে।
উদ্যোক্তারা জানান, বিদেশের নাগরিক-রিপোর্টিং প্ল্যাটফর্মগুলোর ধারণা এবং ঘুষের অভিযোগ নথিবদ্ধ করার ‘ঘুষ ডট সাইট’-এর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ‘চাঁদাবিডি ডটকম’ তৈরি করা হয়েছে।
প্ল্যাটফর্মটিতে চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি দেখানো, নির্মাণকাজ বা ব্যবসার ক্ষেত্রে অবৈধ অর্থ চাওয়ার মতো ঘটনার তথ্য জমা দেওয়া যাবে। অভিযোগের সঙ্গে স্থান, সময়, ঘটনার ধরন, সংশ্লিষ্ট খাত, দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ এবং ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
তবে ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কোনো অভিযোগকে যাচাই করা অপরাধ, তদন্তের ফলাফল কিংবা আদালতে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য, এটি মূলত নাগরিকদের অভিজ্ঞতা নথিবদ্ধ করার একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে কোন অঞ্চল বা খাতে চাঁদাবাজির অভিযোগ বেশি আসছে, সে সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
অভিযোগ প্রকাশের আগে মডারেশনের মাধ্যমে ভুল তথ্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং কারও ব্যক্তিগত ঠিকানা, ফোন নম্বর বা অপ্রাসঙ্গিক পরিচয় প্রকাশ ঠেকানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও সেটিকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হবে না।
‘চাঁদাবিডি ডটকম’-এর উদ্যোক্তাদের দাবি, কাউকে হেয় করা বা অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য নয়। নাগরিকদের অভিজ্ঞতা দায়িত্বশীলভাবে সংরক্ষণ, জনসচেতনতা তৈরি এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনে সমস্যার ধরন তুলে ধরাই প্ল্যাটফর্মটির মূল লক্ষ্য।


