

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. তোফায়েল আহামেদ। সম্প্রতি পাসপোর্ট করতে ময়মনসিংহ বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বায়োমেট্রিক দেওয়ার সময় জানতে পারেন, তার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর বা এনআইডি ব্যবহার করে কেউ আগেই একটি পাসপোর্ট তৈরি করেছেন।
ফলে নিজের পাসপোর্টের আবেদনও সম্পন্ন করতে পারেননি তিনি। তার এনরোলমেন্ট আইডি- ৪২১০-০০০১৭৫৭৫৬।
ঘটনার পর ময়মনসিংহ বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক শামিম আহমেদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন তোফায়েল। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন কোনো আইনি জটিলতা তৈরি না হয়, সেজন্য সাধারণ ডায়েরিও করেন তিনি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একজনের এনআইডি ব্যবহার করে অন্য একজন কীভাবে পাসপোর্ট তৈরি করল?
একই ধরনের অভিযোগ ময়মনসিংহের বাসিন্দা মো. রমিজেরও। তিনিও পাসপোর্টের জন্য ফিঙ্গার দিতে গিয়ে জানতে পারেন, তার এনআইডি ব্যবহার করে অন্য কেউ পাসপোর্ট করে ফেলেছেন। তার এনরোলমেন্ট আইডি- ৪২১০-০০০১৭৯২২৬
এছাড়াও ফেনীর বাসিন্দা সৌদি আরব প্রবাসী মোহাম্মদ রাসেল, পিতা ওবায়দুল হক এবং মাতা জাহানারা বেগমের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ব্যবহার করে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার সান্দিরা বাজার এলাকার একটি ঠিকানা দেখিয়ে নতুন একটি ই-পাসপোর্টের আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের নম্বর ৪২১০-০০০১৩৫২৬৬। আবেদনের বিপরীতে ২০২৪ সালের ২৬ মে এ-১৫৫৩৩০৯৬ নম্বরের একটি ই-পাসপোর্ট ইস্যু করে মোহাম্মদপুর পাসপোর্ট অফিস।
এসবের বাইরেও গত বছরের ১৫ জুলাই আগারগাঁও বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে মো. আনান সাফি ভূইয়া নামে একই ধরনের ঘটনা ঘটে। তার এনরোলমেন্ট আইডি- ৪০০০-০০১৪১৬৭৮৬।
এনপিবি নিউজের অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব অভিযোগগুলোর বেশিরভাগই রাজধানীর মোহাম্মদপুর পাসপোর্ট অফিসের সংশ্লিষ্টতার রয়েছে। এর বাইরে এসব আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস নেওয়া হয়নি এবং আবেদন গুলো দ্রুত সম্পূর্ণ করা হয়েছে। সাধারণ গ্রাহকের ক্ষেত্রে প্রয়োজনের বিভিন্ন ডকুমেন্টস নেওয়া হয় এবং ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে থেকে পাসপোর্ট এর আবেদন সম্পন্ন করতে হয়।
প্রশ্ন উঠেছে, একজনের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে পাসপোর্ট বানিয়েছেন অন্যজন। পুলিশ ভেরিফিকেশনেও ধরা পড়েনি সেই তথ্য। শুধু তাই নয়, সেই পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের ফাঁক গলে দেশের বাইরেও চলে গেছেন ওই ব্যক্তি। অথচ যাচাই-বাছাইয়ের এতগুলো ধাপেও ধরা পড়েননি তিনি। ওই ব্যক্তি কোনো দাগি আসামি, নাকি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া কোনো রোহিঙ্গা—তা জানা নেই কারও। এগুলো কি শুধু কারিগরি ত্রুটি, নাকি এর পেছনে রয়েছে পাসপোর্ট অফিসের অন্দরেই ঘাপটি মেরে থাকা কোনো সংঘবদ্ধ চক্র?
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে মোহাম্মদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে যায় এনপিবি নিউজ টিম। অফিসে প্রবেশের মুখেই আনসার সদস্যদের বাধা। জানতে চাওয়া হয়, কার কাছে যাচ্ছে এনপিবি টিম। বিস্তর জিজ্ঞাসাবাদের পর নিয়ে যাওয়া হয় সহকারী পরিচালকের কাছে।
কর্মকর্তা বলেন, তিনি এখানে নতুন এসেছেন। তার কাছেও এই ধরনের অভিযোগ এসেছে। আগের কিছু পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে এমনটা ঘটতে পারে।
এরপর অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে যায় এনপিবি নিউজের টিম। তবে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর প্রধান ফটকেই তাদের আটকে দেওয়া হয়। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


