বুধবার
২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাবুবাজার সেতুতে যানজটের মহাযজ্ঞ 

মাসুম পারভেজ
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:১০ এএম
বাবুবাজার ব্রিজে যানবাহনের দীর্ঘ সারি   
expand
বাবুবাজার ব্রিজে যানবাহনের দীর্ঘ সারি   

রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার বাবুবাজার সেতু এখন যাত্রী ও চালকদের কাছে এক আতঙ্কের নাম। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলাসহ কেরানীগঞ্জ ও দোহার-নবাবগঞ্জের বাসিন্দারা এই সেতু ব্যবহার করলেও অনিয়ম, অবৈধ দখল ও ট্রাফিক বিশৃঙ্খলায় বুড়িগঙ্গার এই সেতুটি পার হওয়াই যেন 'পুলসিরাত'।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, পুরান ঢাকার সঙ্গে শিল্প এলাকা কেরানীগঞ্জের যোগাযোগ সহজ করতে সেতুটি নির্মিত হলেও বর্তমানে এখানে কোনো নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। মিডফোর্ড হাসপাতাল ও আগানগর কাঠুরিয়া অংশের সিঁড়ি ব্যবহার করে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সেতুর ওপরে উঠছেন।

সুযোগ বুঝে সেতুর মাঝখানের অংশকেই স্থায়ী বাস স্টপেজ বানিয়ে ফেলেছেন চালকেরা। মাঝ রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে যাত্রী তোলা এবং রিকশা, সিএনজি ও অটোরিকশা-ভ্যান যত্রতত্র পার্কিংয়ের ফলে সার্বক্ষণিক স্থবির হয়ে থাকছে সেতুটি।

এর সাথে যুক্ত হয়েছে সেতুর ওপর বসানো ভাসমান শাকসবজি ও ফলের বাজার। কম দামে কেনাকাটার সুবিধায় অনেক পথচারী ও চালক সেতুর ওপরই কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকেন, যা যানজটকে আরও প্রকট করে তোলে। পাশাপাশি রিকশা ও মোটরসাইকেলের বিপরীত মুখে (উল্টো পথে) যাতায়াতের কারণে দু'পাশের পথই সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

বংশাল এলাকার ব্যবসায়ী নাজিমুদ্দিন। তিনি প্রতিদিন ব্যবসায়িক কাজে নবাবগঞ্জ যান। তিনি বলেন, ‘রাত নাই দিন নাই, ব্রিজটা আটকে থাকে। অটোরিকশাগুলা উল্টা পথে আসে।

ব্রিজের ওপরে স্ট্যান্ড বানায়ে বসে থাকে, হাঁটার জায়গা পর্যন্ত থাকে না। বিরক্ত হয়ে এখন ব্রিজে উঠা ছেড়ে দিছি। ব্রিজের নিচ দিয়ে নৌকা দিয়ে যাতায়াত করি।’

আরেক পথচারী আব্দুর রহিম বলেন, ‘এখানে কোনো নিয়ম নেই। দুয়েকজন ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও তাতে কারোরই কিছু যায় আসে না। সেতুর ওপর বসানো হয় দোকান, অধিকাংশ সময় উল্টো পথে চলে গাড়ি। আর ব্রিজের মাঝখানে বাস স্টপেজ। এসব কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এখানেই চলে যায়। দেখার কেউ নাই।’

ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানান, সীমিত লোকবল ও কাঠামোগত কারণেই এই জট নিরসন করা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে লালবাগ জোনের এক সহকারী পুলিশ কমিশনার জানান, সেতুর ওপর ওঠার সিঁড়িগুলোই মূল সমস্যার উৎস। এছাড়া মাত্র দুজন পুলিশ সদস্যের পক্ষে ২৪ ঘণ্টা হাজার হাজার গাড়ি সামলানো ও উচ্ছেদ অভিযান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, অটোরিকশা-ব্যাটারিচালিত ভ্যান আটক করে ডাম্পিংয়ে পাঠানো হচ্ছে এবং সেতুর ওপর যাতে কোনো প্রকার অবৈধ বাজার বা অবৈধ বাস স্টপেজ না থাকে, সে বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন