রবিবার
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড নিয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৩ এএম
আজিজুর রহমান মুছাব্বির
expand
আজিজুর রহমান মুছাব্বির

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন- জিনাত, বিল্লাল ও রিয়াজ। শুক্রবার রাতে মানিকগঞ্জ ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে জিনাত মূল শুটার এবং বিল্লাল হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী। রিয়াজ তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার প্রলোভন, বিপুল অংকের টাকা এবং গ্রেপ্তার হলেও দ্রুত জামিনের আশ্বাস দিয়ে জিনাতকে ভাড়া করে বিল্লাল।

পুরো হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন সমন্বয় করে সে-ই।

সূত্রগুলো আরও জানায়, একটি পক্ষের সঙ্গে মুসাব্বিরের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। পাশাপাশি ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে আরেকটি পক্ষের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।

হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।

গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তেজতুরী বাজারের স্টার হোটেলের পাশের একটি গলিতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বির (৪৫)। এ সময় কারওয়ান বাজার ভ্যানচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান মাসুদ গুলিবিদ্ধ হন। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় পরদিন মুসাব্বিরের স্ত্রী তেজগাঁও থানায় অজ্ঞাত চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পারিবারিক ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মুসাব্বির একাধিক মামলার আসামি হয়ে দীর্ঘ সময় কারাবন্দি ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তিনি পুনরায় সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় তার রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ডিবি কর্মকর্তারা জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই একাধিক গোয়েন্দা টিম মাঠে নামে। এরই ধারাবাহিকতায় গাজীপুরের বোর্ড বাজার থেকে জিনাতকে এবং মানিকগঞ্জ থেকে বিল্লালকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের সহযোগী রিয়াজকেও আটক করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত আরও একজন শুটারসহ কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতকদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং হত্যার প্রকৃত কারণ ও এর নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ডদের শনাক্ত করা হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X