

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নতুন করে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়াতে পারে- এমন জোরালো ইঙ্গিত পাওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দাম ফের কমতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে দরপতন হয়েছে রুপাসহ অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ড বা সরাসরি সোনার দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৩৪ দশমিক ৩১ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো সাপ্তাহিক দরপতনের মুখে পড়ে মূল্যবান এই ধাতুটি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে স্বর্ণের ফিউচার বা চুক্তিকালীন দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতির চলমান অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনাই স্বর্ণের দরপতনের অন্যতম প্রধান কারণ। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, জ্বালানি পণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ও জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আসন্ন বৈঠককে ঘিরে নীতিগত সুদের হার বাড়ানোর জোরালো গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সুদের হার বাড়লে স্বর্ণে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়। কারণ সোনা থেকে নির্দিষ্ট কোনো সুদ বা স্থায়ী রিটার্ন পাওয়া যায় না। ফলে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ স্বর্ণ বিক্রি করে সুদভিত্তিক সম্পদে বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকতে পারেন। এতে স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি হয়।
এদিকে সিএমই ফেডওয়াচ টুলের হিসাব অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৮৬ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষ করে আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বাড়ায় ফেডের কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।
একই সময়ে তেলের বাজারেও বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হুতিদের হামলা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরানের তৎপরতায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়লে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে। আর সেই আশঙ্কাও স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দামও কমেছে। সোমবার রুপার দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৪ দশমিক ০২ ডলারে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও কমেছে এবং মূল্যবান এ দুই ধাতু তুলনামূলক নিম্ন পর্যায়ে অবস্থান করছে।

