

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রকাশিত আইএমএফের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, চলতি বছর বিশ্ব অর্থনীতি ৩ দশমিক ১ শতাংশ হারে বাড়তে পারে। এটি জানুয়ারির পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৩ শতাংশের তুলনায় কম। সংস্থাটি বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক গতি ধীর হয়ে পড়ছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। গত বছর যেখানে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, সেখানে এ বছর আরও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
আইএমএফের নতুন পূর্বাভাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের অর্থনীতি। ইরানের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বড় ধরনের পরিবর্তন এনে ৭ দশমিক ২ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশটির অর্থনীতি ৬ দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একইভাবে সৌদি আরবের প্রবৃদ্ধিও কমিয়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৩ দশমিক ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ১ দশমিক ১ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের পূর্বাভাসের তুলনায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ কম। আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়েরে-অলিভিয়ের গৌরিঞ্চাস জানিয়েছেন, এই প্রবৃদ্ধি হবে অসম এবং এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে নিম্নআয়ের ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর ওপর।
সংস্থাটি আরও সতর্ক করেছে যে, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ৪ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা আগের পূর্বাভাসের চেয়ে ০ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি পরিবাহিত হওয়ায় এই রুটে বাধা সৃষ্টি হলে জ্বালানি, গ্যাস ও সারের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০ ডলার বাড়লে বৈশ্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ০ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম গ্যালনপ্রতি ৪ দশমিক ১১ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ছিল ২ দশমিক ৯৮ ডলার। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার সম্ভাবনায় তেলের দামে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে।
ইউরোজোনের অর্থনীতিতেও ধীরগতির ইঙ্গিত দিয়েছে আইএমএফ, যেখানে প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসতে পারে। পাশাপাশি শক্তিশালী মার্কিন ডলারের কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিপথেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। নীতিনির্ধারকদের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা।
মন্তব্য করুন
