

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগে আব্দুর রহমান শামীম (৬৫) নামে এক পীরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহত শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় এ মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ খাজা আহম্মেদের হুকুমে খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ, স্থানীয় জামায়াত কর্মী রাজিব মিস্ত্রি ও আবেদের ঘাট এলাকার মাদ্রাসা শিক্ষক সাফিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জন দরবার শরিফে হামলা চালায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল) দেলোয়ার হোসেন। এসময় তিনি এনপিবি নিউজকে বলেন, এখনো পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এজাহার ভুক্ত আসামি ছাড়াও অনেকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে, গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার এজাহারে বাদী ফজলুর রহমান উল্লেখ করেন, আব্দুর রহমান শামীম ঘটনার দিন নিজ দরবার শরিফ ছিলেন। এসময় আসামি মুহাম্মদ খাজা আহম্মেদের নির্দেশে এজাহারভুক্ত আসামিরাসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০ থেকে ২০০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে দরবার শরিফে প্রবেশ করে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
এসময় আসামি রাজিব মিস্ত্রি লোহার রড দিয়ে আবদুর রহমান শামীমের কোমর ও মাথায় আঘাত করেন এবং অন্যান্য অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে এবং মারধর করে। শামীমের চিৎকারে দরবারের পরিচারিকা জামিরুন নেছা এগিয়ে এলে আসামি আসাদুজ্জামান তাকে লক্ষ্য করে কোপ মারতে উদ্যত হন। তবে তিনি বাঁ হাত দিয়ে প্রতিরোধ করলে তার কবজির ওপরের অংশে গুরুতর জখম হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা দরবার শরিফে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে। পাশাপাশি স্টিলের আলমারি ভেঙে ৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ এবং প্রায় ৪ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ খাজা আহম্মেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার দিন দুপুর ২টার দিকে স্থানীয় মসজিদের ইমাম, মুসল্লি ও এলাকাবাসী মিলে বসে বিষয়টি আইনগতভাবে সমাধানের আলোচনা চলছিল। তবে হঠাৎ ফেসবুকে একটি মিছিলের ছবি দেখে তিনি নিহত শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান সান্টুকে ফোন করে সতর্ক করেন।
তিনি জানান, কিছুক্ষণ পর সান্টু (ফজলুর রহমান) তাকে ফোনে জানান যে সেখানে হামলা ও ভাঙচুর শুরু হয়েছে। এরপর তিনি ঘটনাস্থলে যেতে চাইলে সান্টু তাকে সেখানে না গিয়ে হাসপাতালে যেতে পরামর্শ দেন।
খাজা আহম্মেদ আরও বলেন, পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ হস্তান্তর পর্যন্ত তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবুও তাকে কেন এ মামলায় আসামি করা হয়েছে, তা তার বোধগম্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ ব্যাপারে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি মূলত গণপিটুনির,এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা নেই। তাদের দলের কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলেও তিনি দাবি করেন। বর্তমানে দায়ে হওয়া মামলাটি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত শনিবার দুপুরে কোরআন অবমাননার অভিযোগে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে দরবার শরিফে পীর আবদুর রহমান শামীমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এসময় দরবার শরিফে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
মন্তব্য করুন