বৃহস্পতিবার
১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমদানিতে এলসি ছাড়াও অর্থায়নের সুযোগ, বাড়ছে ডিজিটাল লেনদেন

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

দেশের আমদানি বাণিজ্যে আরও সহজ ও আধুনিক ব্যবস্থা চালু করতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে শুধু এলসির ওপর নির্ভর না করে ডকুমেন্টারি কালেকশন, সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স ও বিভিন্ন ধরনের বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থায় আমদানি করা যাবে। একই সঙ্গে আমদানি-সংক্রান্ত কাগজপত্র ডিজিটাল পদ্ধতিতে ব্যবহারের সুযোগও বাড়ানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ-১ থেকে এমন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এতে আমদানি সংক্রান্ত গত এক বছরে জারি করা বিভিন্ন নির্দেশনা একত্র করা হয়েছে। নতুন সার্কুলার জারির পর আগের সব নির্দেশনা বাতিল করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনাটি এক বছর কার্যকর থাকবে।

এলসি ছাড়াও আমদানির সুযোগ

নতুন নির্দেশনায় ব্যাংকগুলোকে এলসি ছাড়াও Documents against Payment (DP) ও Documents against Acceptance (DA) পদ্ধতিতে আমদানি লেনদেন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আমদানিকারক ও বিদেশি সরবরাহকারীর মধ্যে সরাসরি ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির ভিত্তিতেও এলসি ছাড়া আমদানি করা যাবে। তবে এসব ক্ষেত্রে আমদানি নীতি ও বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত নিয়ম মানতে হবে।

এর পাশাপাশি সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্সে জোর দেওয়া হয়েছে এই সার্কুলারে। আমদানি ব্যবসাকে আরও সহজ করতে ব্যাংকগুলোকে Supply Chain Finance (SCF) চালুর জন্য উৎসাহিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এর আওতায় buyer’s credit, supplier financing ও payables financing দেওয়া যাবে। ভালো ঋণগ্রহীতাদের usance আমদানিতে ব্যাংক অর্থায়ন করতে পারবে। আবার আমদানির বিল গ্রহণের পর তা সরবরাহকারীর কাছে discount করার সুযোগও থাকবে।

তবে নতুন ধরনের এই অর্থায়ন চালুর আগে ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ঋণ মূল্যায়ন ও exposure limitসহ বিস্তারিত কাঠামো জমা দিতে হবে।

কাগজের বদলে ডিজিটাল নথি

আমদানি-রপ্তানির কাগজপত্র ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন যথাযথ যাচাই ও আইনি বৈধতা নিশ্চিত করা গেলে ব্যাংক ইলেকট্রনিক invoice ও transport document গ্রহণ করতে পারবে। এ ছাড়া পরীক্ষামূলকভাবে Electronic Transferable Records (ETRs) ব্যবহারের কাঠামো চালু করা হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে আমদানি-রপ্তানির অনেক নথি অনলাইনে আদান-প্রদান ও যাচাই করা সম্ভব হবে।

আগাম পেমেন্টে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত সুবিধা

আমদানির বিপরীতে আগাম অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রেও সুযোগ রাখা হয়েছে। সাধারণ অনুমতির আওতায় repayment guarantee ছাড়াই সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত advance payment করা যাবে। আর ERQ account থেকে এ সীমা ৫০ হাজার ডলার।

এর বেশি অর্থ আগাম পাঠাতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে। জরুরি ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করলে সাধারণত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তা নিষ্পত্তির কথা বলা হয়েছে।

বড় আমদানিতে বাড়ছে নজরদারি

৩ মিলিয়ন ডলার বা তার বেশি মূল্যের আমদানির ক্ষেত্রে এলসি খোলার কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের Online Import Monitoring System (OIMS)-এ তথ্য দিতে হবে।

একই সঙ্গে ব্যাংককে দেখতে হবে আমদানির দাম আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না এবং আমদানিকারক ও বিদেশি সরবরাহকারী প্রকৃত ব্যবসায়ী কি না।

চার মাসের মধ্যে বিল অব এন্ট্রি করতে হবে

আমদানির জন্য টাকা পাঠানোর পর সাধারণভাবে চার মাসের মধ্যে Bill of Entry ব্যাংকে জমা দিতে হবে। Supplier’s Credit ও DA-এর ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সময়মতো Bill of Entry জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকের নতুন এলসি খোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।

FTZ-এ আমদানির নতুন কাঠামো

Free Trade Zone বা FTZ-এ পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম করা হয়েছে। বিদেশি সরবরাহকারীর মালিকানাধীন পণ্য সেখানে consignment basis-এ রাখা যাবে। পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার বা ক্রেতার কাছে বিক্রি না হওয়া পর্যন্ত তা FTZ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব inventory হিসেবে গণ্য হবে না। এ ধরনের পণ্য FTZ-এ ৪৮ থেকে ৬০ মাস পর্যন্ত রাখা যাবে।

ব্যাংকারদের দায়ও স্পষ্ট

আমদানি বিল যথাসময়ে পরিশোধে ব্যর্থ হলে শুধু ব্যাংক নয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ব্যক্তিগত দায়ও আসতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে ব্যাংকের অনুমোদন বা লাইসেন্সের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনায় একদিকে আমদানি অর্থায়ন সহজ করার চেষ্টা করা হয়েছে, অন্যদিকে আমদানির নামে অতিমূল্যায়ন, অর্থপাচার বা পণ্য না এনে বৈদেশিক মুদ্রা পরিশোধের মতো ঝুঁকি ঠেকাতে ব্যাংকের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বিশেষ করে এলসির বাইরে বিকল্প অর্থায়ন এবং ডিজিটাল নথির ব্যবহার বাড়লে আমদানি প্রক্রিয়া দ্রুত ও কম খরচের হতে পারে। তবে একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে আমদানিকারক, পণ্যের দাম, নথিপত্র ও পণ্য দেশে আসার বিষয়টি আরও কঠোরভাবে যাচাই করতে হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank