

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বুধবার (১৭ জুন) সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈঠক করেছেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
বৈঠক শেষে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুর নবী মানিক জানান, “ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের সাত দফা দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন গভর্নর”।
তিনি বলেন, গতকাল মঙ্গলবার ইসলামী ব্যাংকের ভুক্তভোগী শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকদের পক্ষে সাত দফা দাবিতে গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখে গ্রাহক ফোরামের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহন করায় বৈঠকে গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে গভর্নরকে ধন্যবাদ জানানো হয়।
অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, আমাদের দাবি পরিস্কার ইসলামী ব্যাংকের এমন কোনো ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া যাবে না যিনি আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত কিংবা নৈতিকভাবে কোনো অভিযোগ থাকতে পারবে না। একই সাথে যাদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হবে তারাও নৈতিক ও আদর্শিক এবং দল নিরপেক্ষ হতে হবে। এসময় তিনি আরও বলেন, সাত দফা দাবি মেনে নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন হলে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম সারাদেশে গ্রাহকদের মাঝে পজেটিভ ম্যাসেজ পৌঁছিয়ে দেবে এবং ব্যাংকের অগ্রযাত্রায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ, ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সাত দফা দাবি হচ্ছে - “ অবিলম্বে অংশীজনদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন’, ‘২০১৭ সালে গায়ের জোরে ও রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে ইসলামী ব্যাংকের যেসকল শেয়ারহোল্ডারদের থেকে বৈধ মালিকানা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তাদের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া’, ‘ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং এস আলম সহ যারা ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে, তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা’, ‘ইসলামী ব্যাংকগুলোতে বিরাজমান আতঙ্ক দূর করা এবং ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে যেকোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারকে বিরত থাকা’, ‘ব্যাংকের লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার ও এস আলমের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা’, ‘ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা সংশোধনের মাধ্যমে লুটেরাদের পুনরায় ব্যাংকে পুনর্বাসনের যে ছদ্মবেশী সুযোগ রাখা হয়েছে, তা অবিলম্বে বাতিল করা, জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অসত্য বক্তব্য এবং ডাকাত এস আলমের হাতে পুনরায় ব্যাংক তুলে দেওয়ার যে প্রচ্ছন্ন আভাস দেওয়া হয়েছে, তা অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করা”।
