

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বজুড়ে চলা অস্থিরতার মধ্যেও প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিরা রেমিট্যান্স পাঠানো অব্যাহত রেখেছেন। এর মাধ্যমে অব্যাহত রয়েছে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা। চলতি এপ্রিল মাসের ২৮ দিনে ২৯০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে দেশে। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ ৩৪ হাজার ৩৭০ কোটি টাকার বেশি। প্রতিদিন হিসেবে যা ১০ কোটি ডলারের বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, দেশের বৈধ চ্যানেলে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ২৯০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪০ কোটি ৫০ লাখ ডলার বেশি। ২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছিল ২৫০ কোটি ৩০ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, চলতি বছরের রেমিট্যান্স প্রবাহ ভালো। যে ধারায় প্রবাসী আয় আসছে তা অব্যাহত থাকলে চলতি মাস শেষে ৩২০ কোটি ডলার ছাড়াবে। যা যে কোনো এপ্রিল মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শেষ হতে যাওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সবচেয়ে বড় চমক প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফন। সদ্য গঠিত রাজনৈতিক সরকারের জন্য আশির্বাদ হয়ে কাজ করছেন প্রবাসীরা। অথচ প্রবাসীদের এ আয়ে বিএনপি সরকারের ভূমিকা খুবই অল্প। বিগত সরকারের বিভিন্ন নীতির সুবিধা পাচ্ছে বর্তমান সরকার। এতে করে সরকারের দায়বদ্ধতাও বাড়বে বলে মনে করি। প্রবাসীদের কারণে বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও যেভাবে রেমিট্যান্স আসছে তার মর্যাদা সরকারকে দিতে হবে। নইলে প্রবাসীরা হতাশ হবেন। এর ফলে আবারো অবৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাবেন তারা। এতে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নষ্ট হবে।
বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় দেড় কোটি বাংলাদেশি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন। এসব প্রবাসীরাই দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। দেশের সিংহভাগ প্রবাসীরা থাকেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। সম্প্রতি ইরানের উপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের ফলে তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোতে অস্থিরতা তৈরী হয়। এতে প্রবাসীদের সংকট তৈরী হওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়। সেই সংকট কাটিয়ে উঠে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন আগের চেয়েও আরো বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র মতে, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত আয় পাঠাতে যেন কোনো সমস্যার সম্মুখীন না হতে হয় সে ব্যবস্থা নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ লক্ষ্যে প্রতিটি তফসিলি ব্যাংককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে করে প্রতিটি ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সুযোগ নিশ্চিত করছে। এর কারণে রেমিট্যান্স পাঠাতে আগের চেয়েও বেশি স্বাচ্ছ্যন্দ বোধ করছেন প্রবাসীরা। পাশাপাশি রেমিট্যান্সের বিপরীতে সরকারের প্রণোদনা অব্যাহত থাকায় প্রতি ১০০ টাকায় আড়াই টাকা হারে বেশি দেওয়ায় বৈধ চ্যানেলেই রেমিট্যান্স আসছে।
মন্তব্য করুন