সোমবার
০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সোমবার
০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আবারো রিজার্ভে হাত দেওয়ার আবদার ব্যবসায়ীদের

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
26663
expand
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এফবিসিসিআইয়ের প্রতিনিধি দল
  • রপ্তানি তহবিলের আকার বাড়িয়ে ৫ বিলিয়ন ডলার চায়
  • ইডিএফ লোনের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে ৫ বছর করার দাবি
  • একক গ্রাহক ঋণসীমা তুলে দেওয়ার দাবি
  • রিজার্ভে চোখ ব্যবসায়ীদের

রেমিটেন্সের ওপর ভর করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অবস্থান সুসংহত হয়েছে দীর্ঘদিন পরে। এরমধ্যেই রিজার্ভ থেকে ঋণ পাওয়ার আবদার করেছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা। এছাড়া রেমিটেন্স বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রা পর্যাপ্ত থাকার কথা জানিয়ে বিনিময় হার নতুন করে না বাড়ানোর অনুরোধ করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।

সোমবার (০৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে সংগঠনটির প্রশাসক আব্দুর রহিম খানের নেতৃত্বে ১২ দফার লিখিত প্রস্তাব দেয় এফবিসিসিআইয়ের নেতাদের প্রতিনিধিদল।

গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক শেষে এফবিসিসিআই’র মহাসচিব আলমগীর হোসেন বলেছেন, ‘ডলারের অভাব না থাকায় বিনিময় হার না বাড়ানোর জন্য বলেছি। টাকার মান যেনো আর না কমানো হয় সেই আহ্বানও জানানো হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘গভর্নর আমাদের বলেছেন, দেশে ডলারের কোনো অভাব নেই। এক্সচেঞ্জ রেট বাড়ানোর কোনো সুযোগে নাই। কেউ যদি বাড়িয়ে দেয় তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রপ্তানিকারকদের স্বল্পমেয়াদী ঋণের সুবিধা প্রদান করতে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) গঠন করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইডিএফ এর আকার দুই দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। এ তহবিলের আকার বাড়িয়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার দাবি তুলেছে এফবিসিসিআই।

এছাড়া ইডিএফ ফান্ড থেকে পাওয়া ঋণের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে ৫ বছর ও সুদহার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করার দাবি করা হয়।

ইডিএফ তহবিলের অর্থ খেলাপী হয়ে যাওয়া, ঋণ নিয়ে ফেরত দিতে গড়িমসি ও একটি গ্রুপের কাছেই ৪ বিলিয়ন ডলারের মত অর্থ চলে যাওয়ার প্রেক্ষিতে অর্থনীতিবিদদের সমালোচনা ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ শর্ত মানতে গিয়ে ইডিএফ তহবিলের আকার কমিয়ে আনা হয়।

এর বিপরীতে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করতে স্থানীয় মুদ্রা টাকায় আরেকটি তহবিল গঠন করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। রপ্তানি সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন তহবিলটির আকার ১০ হাজার কোটি টাকা।

আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমরা বলেছি, ধীরে ধীরে কেইস-টু-কেইস বেসিস ধরে ফান্ডের আকার বাড়ানোর।’

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ব্যবসায় খরচ বেড়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি, ব্যবসায়ীদের নীতি সহায়তা দিতে।’

সভায় ৫ ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করার বিষয়টিও আলোচনা হয় জানিয়ে আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমরা বলেছি আমানতকারী ও ঋণ গ্রহীতা ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য। ব্যাংকিং খাতে যে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা ছিল তা ঠিক করা দরকার।’

একক গ্রাহক ঋণ সীমা তুলে দেওয়ার দাবি তুলে এফবিসিসিআইর পক্ষ থেকে বলা হয়, এখন তো ব্যবসার খরচ অনেক বেড়ে গিয়েছে। তাই সীমাটি বাড়িয়ে দেওয়া দরকার।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘রপ্তানিকারকদের সহায়তা করতে পণ্য জাহাজীকরণের সময় একটি ঋণ নেওয়ার সুযোগ ছিল। সেটি এখন বন্ধ করা হয়েছে, আমরা বলেছি-সেটি চালু করতে।’

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিনিয়োগ পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জের মুখে চলে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এখন ব্যবসায়ীদের নীতি সহায়তা দিতে হবে। তাহলে ব্যবসা সচল থাকবে। অর্থনীতি সচল হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে। বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগ ও উৎপাদন ধরে রাখতে জরুরি নীতিগত সমর্থন প্রয়োজন।

ব্যবসায়ীদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে, বিনিয়োগ বাড়াতে সুদ কমানো, ডলার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, অর্থনৈতিক চাপ মোকাবেলায় সুদের হার কমিয়ে এক অঙ্কে নামানো, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় জ্বালানি ও কাঁচামালের উচ্চমূল্য এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে শিল্প খাতের উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় ঋণের সুবিধা বাড়ানো, ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, পুনঃতফশীলকরণ এবং প্রণোদনা প্যাকেজ কার্যকর করা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন