মঙ্গলবার
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাকে শোকজ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫০ এএম
বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো
expand
বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো

গভর্নরের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে সংবাদ সম্মেলন করায় তিন কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্বাচনের পরপরই আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে তারা গভর্নরকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা দিয়ে দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণ, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগসহ একাধিক ইস্যুতে প্রশ্ন তোলেন।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট তিন কর্মকর্তাকে ১০ দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর পরবর্তীতে নীতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

শোকজ পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন- নীল দলের সাধারণ সম্পাদক ও এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের পরিচালক নওশাদ মোস্তফা, বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক কর্মদিবস পর, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ ডাকা এক সংবাদ সম্মেলনে তারা গভর্নরের বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর মধ্যে ছিল দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণ, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, তুলনামূলকভাবে কম দুর্বল এক্সিম ব্যাংক ও সোস্যাল ইসলামী ব্যাংককে পাঁচটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ–২০২৫ এর আওতায় ইতোমধ্যে পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে সরকারি মালিকানায় একটি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে।

তারা আরও দাবি করেন, বিকাশকে দ্রুত ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে সংশ্লিষ্ট নথিতে দেখা গেছে, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সসহ আটটি এজেন্ডা নিয়ে সেদিন পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক আহ্বান করা হয়েছিল। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্রের দপ্তর থেকেও জানানো হয়েছিল শুধুমাত্র বিকাশকে ডিজিটাল লাইসেন্স দেওয়ার জন্য পর্ষদ সভা ডাকা হয়েছে বিষয়টি সঠিক নয়।

এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্টাফ রেগুলেশন অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা সংবাদ সম্মেলন বা প্রকাশ্য বক্তব্য দেওয়ার আগে গভর্নরের অনুমোদন নিতে হয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা অভ্যন্তরীণ ফোরামে তোলার সুযোগ রয়েছে। এই বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগেই তিন কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংবাদ সম্মেলনের দিন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর কয়েকটি গণমাধ্যমে বলেন, নির্বাচনের পর একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি ঘোলা করার চেষ্টা করছে। পরিচালনা পর্ষদে আলোচনার বিষয় প্রকাশ্যে আনা শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ বলেন, ব্যাংক খাতে ‘খেয়ালি বক্তব্য’ বন্ধ করে বস্তুনিষ্ঠ প্রক্রিয়ায় ব্যাংক রেজল্যুশন নিশ্চিত করতে হবে।

মাসুম বিল্লাহ বলেন, তারা প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসন চান, কোনো ব্যক্তির নয়। তার ভাষায়, “স্বায়ত্তশাসন মানে এই নয় যে প্রতিষ্ঠানের প্রধান একনায়ক বা স্বৈরাচার হয়ে উঠবেন।”

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগে কথা না বললেও এখন চুপ থাকলে ভবিষ্যতে আবার প্রশ্ন উঠবে। নওশাদ মোস্তফা বলেন, “৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান না ঘটলে হয়তো আমরা এতটা খোলামেলা হতাম না।”

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X