

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রবাসী আয় বাড়ায় দেশের ব্যাংকিং খাতে ডলারের উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে। এতে বাজারে ডলারের দর কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক ১৬টি ব্যাংক থেকে মোট ১৯৬ মিলিয়ন বা প্রায় ২০ কোটি মার্কিন ডলার কিনেছে। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে করা এই ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ও কাট-অফ রেট উভয়ই নির্ধারণ করা হয় ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।
এ নিয়ে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ৪৫২ কোটি মার্কিন ডলার বা ৪.৫২ বিলিয়ন ডলার কিনেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশের ডলার বাজার চরম অস্থিরতার মুখে পড়ে। সে সময় প্রতি ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছে যায়। তৎকালীন সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। একপর্যায়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করতে হয়, তবুও বাজারে স্থিতিশীলতা পুরোপুরি ফেরেনি।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, গত তিন অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে। এর মধ্যে ২০২১–২২ অর্থবছরে ৭.৬ বিলিয়ন ডলার, ২০২২–২৩ অর্থবছরে ১৩.৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ১২.৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়। বিপরীতে, একই সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হয়েছে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার।
তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থপাচার বন্ধে বর্তমান সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয়। এতে রপ্তানি ও প্রবাসী আয়-উভয়ই বেড়েছে। ফলে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ বাড়লেও সে অনুযায়ী চাহিদা না থাকায় স্বাভাবিকভাবে ডলারের দাম কমে যাওয়ার কথা। তবে ডলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজ উদ্যোগে বাজার থেকে ডলার কিনছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৫ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।
রেমিট্যান্স বৃদ্ধি ও ডলার ক্রয়ের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২ ফেব্রুয়ারি দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম–৬ অনুযায়ী রিজার্ভ হয়েছে ২৮ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার।
ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি ব্যবসাও কমেছে। পাশাপাশি, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকার কারণে বৈধ পথে প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতিতে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে চলতি অর্থবছর ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত প্রবাসীরা মোট এক হাজার ৯৪৪ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরে একই সময় রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৫৯৬ কোটি মার্কিন ডলার।
মন্তব্য করুন

