শুক্রবার
০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে জমা ৪৪ কোটি টাকা, উত্তোলন ১০৭ কোটি

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৩ পিএম আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৭ পিএম
সংগৃহীত ছবি
expand
সংগৃহীত ছবি

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক কার্যক্রম শুরুর পর প্রথম দুই দিনে গ্রাহকদের মধ্যে কোনো উল্লেখযোগ্য চাপ দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বরং এ সময়ে ব্যাংকটি থেকে ১০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা উত্তোলনের বিপরীতে ৪৪ কোটি টাকা নতুন আমানত জমা পড়েছে, যা গ্রাহকদের আস্থারই প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন গভর্নর।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান ও নুরুন নাহার, নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম ও আরিফ হোসেন খান এবং সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আইয়ুব ভুঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, সাধারণত একটি নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা ও কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় লাগে। তবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে মাত্র দুই মাসের মধ্যেই লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) প্রদান, মূলধন সংগ্রহ, সাইনবোর্ড স্থাপন এবং লেনদেন শুরু করা সম্ভব হয়েছে। নতুনভাবে প্রণীত ব্যাংক রেজুলেশন অর্ডিন্যান্সের আওতায় ধাপে ধাপে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর জানান, ব্যাংক রেজুলেশন অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ইতোমধ্যে রেজুলেশন স্কিম জারি করা হয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুসারে আমানতকারীদের সঙ্গে ব্যাংকের লেনদেন চলছে। নতুন বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। প্রাথমিকভাবে সরকারি প্রতিনিধিদের দিয়ে বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং শিগগিরই স্বতন্ত্র পরিচালকসহ একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, একজন ব্যাংকার ও একজন আইন বিশেষজ্ঞ যুক্ত হয়ে পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠিত হবে।

দুই দিনের লেনদেনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে গভর্নর বলেন, ১ ও ৪ জানুয়ারি মোট ১৩ হাজার ৩১৪টি উত্তোলন হয়েছে। এতে মোট উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। সবচেয়ে বেশি উত্তোলন হয়েছে এক্সিম ব্যাংক থেকে—৬ হাজার ২৬৫ জন গ্রাহক ৬৬ কোটি টাকা তুলেছেন। তবে একই সময়ে নতুন করে ৪৪ কোটি টাকা আমানত জমা পড়েছে। ফলে নেট হিসাবে পরিস্থিতি সন্তোষজনক।

গভর্নর জানান, সামনে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে—একটি হলো সমন্বিত আইটি সিস্টেম চালু করা, যেটির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি টিম কাজ করছে। অন্যটি হলো পাঁচটি ব্যাংকের অতীত অনিয়ম খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক অডিট। তবে একই সঙ্গে দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তারা যেন নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরিবেশে কাজ করতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, পাঁচ ব্যাংকের দুরবস্থার সঙ্গে জড়িত ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু ব্যাংক নয়, অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার কর্মকর্তা জড়িত থাকলেও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে বিষয়টি হস্তান্তর করা হবে। তারা আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

তিনি আরও জানান, ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়া গেলে জানা যাবে টাকা কীভাবে, কোন কোন হিসাবে গেছে এবং কারা এর সুবিধাভোগী।

তিনি জানান, আমরা কাউকে ছাঁটাই করতে চাই না। তবে কেউ কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।

মুনাফার হার প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, শরিয়াহভিত্তিক মুনাফার হার বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যমান ও নতুন পণ্য একীভূত করে গ্রাহকদের জন্য নতুন নতুন শরিয়াহসম্মত প্রোডাক্ট চালু করা হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আগামী ১৯ জানুয়ারি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X