

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশের বাণিজ্য ঘাটতি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও রপ্তানি আয় কমেছে। ফলে এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫-এ এ ঘাটতি ছিল ২০ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ৬ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব বলছে, গত অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪৩ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের তুলনায় রপ্তানি আয় কমেছে ১ শতাংশ। বিপরীতে আমদানি ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারে। এক বছরে আমদানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরের পর এক বছরে আমদানি বৃদ্ধির এটিই সর্বোচ্চ হার।
অর্থনীতিবিদ ও খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বাণিজ্য ঘাটতির এই বড় বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক খাতের ওপর চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এর পেছনে অভ্যন্তরীণ কারণের চেয়ে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবই বেশি। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি, পশ্চিমা দেশগুলোর উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বিভিন্ন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় তৈরি হওয়া সংকট এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
এসব কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা ও নতুন রপ্তানি আদেশ কমেছে। এতে রপ্তানি আয় প্রত্যাশিত হারে বাড়েনি। অন্যদিকে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি আরও বড় হয়েছে।
বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়নি। এর অন্যতম কারণ রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে।
এর ফলে চলতি হিসাবের ঘাটতি প্রায় ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়েছে। একই সময়ে দেশের আর্থিক হিসাবে ৭৮৯ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে। আগের অর্থবছরে এ উদ্বৃত্ত ছিল ৩৫৯ কোটি ডলার।
প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), বিদেশি অনুদান ও বিদেশি ঋণের প্রবাহের ওপর ভর করেই আর্থিক হিসাবে এই উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বোঝার ক্ষেত্রে চলতি হিসাব গুরুত্বপূর্ণ সূচক। রেমিট্যান্সে রেকর্ড প্রবাহ থাকা সত্ত্বেও বাণিজ্য ঘাটতির কারণে বাংলাদেশের চলতি হিসাব এখনো ঘাটতিতে রয়েছে।
তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে শুধু রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর করে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য ধরে রাখা টেকসই হবে না। বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা উন্নত করার ওপর জোর দিতে হবে।