মঙ্গলবার
২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদের আগে রেমিট্যান্সে ধ্বস: ৮ দিনে এলো মাত্র ৩৯ কোটি ডলার

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৭:১১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবছর দুই ঈদে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়ে যায় অনেক বেশি। কিন্তু এবার এ চিত্র একেবারেই ভিন্ন। সদ্য সমাপ্ত ঈদুল ফিতরের আগে ২০ মার্চ পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ২৫৭ কোটি ডলার। এর বেশিরভাগটাই অর্থাৎ ২৩০ কোটি ডলার এসেছিল ১৫ মার্চের মধ্যেই। ঈদের আগে পরে ৮ দিন মিলিয়ে রেমিট্যান্স এসেছে মাত্র ৩৯ কোটি ডলার যা প্রতিদিন হিসেবে মাত্র ৪ কোটি ৮৫ লাখ ডলার প্রায়। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

রেমিট্যান্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে প্রতিদিন ৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে বাংলাদেশ। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা ঈদ ও রোজা উপলক্ষ্যে দেশে থাকা আত্মীয়দের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। কিন্তু ঈদের আগে আগে এই প্রবাহে ধ্বস নামে।

এর কারণ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে রেমিট্যান্স কমেছে বলে দাবি করেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে ইসরাইল-আমেরিকার হামলার কারণে যুদ্ধ শুরু হয়। যার রেশ ছড়িয়ে পড়ে তেলসমৃদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে। সৌদি, কাতার, কুয়েত, আরব আমিরাত, জর্ডান, বাহরাইন জুড়ে থাকা আমেরিকান সামরিক ক্ষেত্রে আঘাত করে ইরান। যার ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হয় মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশগুলোর কর্মক্ষেত্র। বন্ধ হয়ে যায় অনেক ব্যবসায়িক কার্যক্রম। আরব আমিরাত থেকে অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের সরিয়ে নেয় এবং তাদের সেবা সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করে।

মধ্যপ্রাচ্যের এসব দেশেই মূলত বাংলাদেশিরা বসবাস করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র এনপিবি নিউজকে জানায়, গেল বছর রোজার বা ঈদুল ফিতরের আগের এক সপ্তাহে মোট ১২৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে। সে তুলনায় এবারের ঈদের এক সপ্তাহ আগের রেমিট্যান্স এসেছে আগের বছরের চেয়ে অর্ধেকেরও কম। এ বছর এক ঈদের আগের সপ্তাহে রেমিট্যান্স এসেছে মাত্র ৫৬ কোটি ডলার। যার ফলে শুরুর দিকের রেমিট্যান্স প্রবাহ এসে থমকে যায় ঈদের আগে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনপিবি নিউজকে বলেন, 'ইসরাইল-আমেরিকার হামলার ফলে ইরান যে প্রতিঘাত শুরু করে তার মূল আঘাত লাগে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। এসব দেশেই মূলত আমাদের দেশের সিংহভাগ প্রবাসী তাদের শ্রম দেয়। এ যুদ্ধের প্রথমদিকে তেমন সমস্যা না হলেও ধীরে ধীরে এসব দেশে হামলা জোরদার করে ইরান। এরফলে প্রচুর কর্মসংস্থান বন্ধ হয়। প্রবাসীরা চাকরিচ্যুত না হলেও আপাতত কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তাদের বেতনও বন্ধ আছে। এ কারণেই রেমিট্যান্স প্রবাহ ধাক্কা খেয়েছে। দ্রুত যুদ্ধ বন্ধ না হলে এর প্রভাব হবে খুবই ভয়ংকর।'

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র বলছে, চলতি মাসের ২৩ মার্চ পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ২৮২ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বেশি। ১৬ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত এসেছে মাত্র ৩৯ কোটি ২০ লাখ ডলার সমমূল্যের রেমিট্যান্স। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে। এ দুটি দেশ থেকেই রেমিট্যান্স এসেছে ১৮ কোটি ডলার। অথচ এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ঈদুল ফিতরের আগে রেমিট্যান্স এসেছিল ৬০ কোটি ডলারেরও বেশি। ইউরোপ এবং আমেরিকায় থাকা প্রবাসীরাও যুদ্ধের অনিশ্চয়তায় রেমিট্যান্স কিছুটা কম পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন