শনিবার
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‎রমজানের শুরুতেই মাছ-মাংসের দামে আগুন

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
‎রমজানের শুরুতেই মাছ-মাংসের দামে আগুন। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
expand
‎রমজানের শুরুতেই মাছ-মাংসের দামে আগুন। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

পবিত্র রমজান শুরু হতেই রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে মাছ ও মাংসের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ মাছের দাম কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে ৩৫০ টাকার নিচে ভালো মানের মাছ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে গরু ও খাসির মাংসও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচাবাজার, কৃষি মার্কেট, জিগাতলা ও সেগুনবাগিচাসহ বিভিন্ন বাজারে এমন চিত্র দেখা যায়। রমজানের আগে তুলনামূলক স্থিতিশীল বাজারে রোজা শুরু হতেই দামের এই ঊর্ধ্বগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন ক্রেতারা।

বাজারে চাষের মাছের মধ্যে রুই, কাতলা ও মৃগেল কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক দিন আগেও এসব মাছ তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছিল বলে জানান ক্রেতারা।

ইলিশ আকারভেদে ১,২০০ থেকে ১,৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মাছের মধ্যে পাবদা, টেংরা ও বোয়ালের দাম ১,২০০ থেকে ১,৫০০ টাকার মধ্যে। পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া, যেগুলো সাধারণত স্বল্প আয়ের মানুষের নাগালের মধ্যে থাকে, সেগুলোও এখন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের পাশাপাশি মাংসের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১,১০০ থেকে ১,২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। কয়েকজন ক্রেতা জানান, রমজানের আগে তুলনায় এখন প্রতি কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে।

মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, তারা রাজধানীর বড় পাইকারি বাজার থেকে রাতেই মাছ ও মাংস সংগ্রহ করেন। পাইকারি দামে বৃদ্ধি পাওয়ায় খুচরা বাজারেও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। পরিবহন ব্যয়, বরফ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ যোগ হয়ে মোট ব্যয় আরও বেড়ে যায়। ফলে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

জিগাতলা বাজারের আরেক বিক্রেতা জানান, পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়লে খুচরা পর্যায়ে তা সমন্বয় করা ছাড়া উপায় থাকে না। এতে অনেক সময় ক্রেতাদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়।

অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজান এলেই অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যায়। তাদের মতে, রোজা শুরুর আগ পর্যন্ত বাজার তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও মাস শুরু হতেই দাম বেড়ে যায়। বাজার তদারকিতে কার্যকর নজরদারির অভাব রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

শরীফ উদ্দিন নামে এক ক্রেতা বলেন, রমজানের আগে যে মাছ ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায় পাওয়া যেত, তা এখন ৩৫০ টাকার নিচে নেই। বড় আকারের মাছ কিনতে গেলে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকার কমে পাওয়া যাচ্ছে না। মাংসের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা।

সেগুনবাগিচা বাজারে আসা আরেক ক্রেতা জসিম উদ্দিন জানান, রমজানে বাজার করতে গেলে আগের চেয়ে অনেক বেশি টাকা খরচ হচ্ছে। পরিবারের চাহিদা মেটাতে গিয়ে বাজেট সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বাজার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।

রমজানের শুরুতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দামে এভাবে ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ তৈরি করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বাজার তদারকি ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X