শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন ঋণ নিয়ে পুরোনো দায় মেটাচ্ছে সরকার

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:৫২ পিএম
প্রতীকী ছবি
expand
প্রতীকী ছবি

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দেশের সামগ্রিক ঋণ আরও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিদায়ী অর্থবছর শেষে সরকারের ঋণ ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের অর্থবছরে এই হার ছিল ৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে ১ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকা ধার করেছে। এর বড় অংশই ব্যয় হয়েছে আগের সরকারের রেখে যাওয়া পুরোনো ঋণ পরিশোধে। শুধুমাত্র পুরোনো ঋণের পরিমাণই ১২ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক তিনটি বড় কারণ চিহ্নিত করেছে:

  • রাজস্ব আদায় কম হওয়া এবং ব্যয় বেড়ে যাওয়া
  • আগের সরকারের নেওয়া বিপুল পরিমাণ বকেয়া ঋণ পরিশোধের চাপ
  • উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে টাকার মান কমে যাওয়া

শুধু গত অর্থবছরেই ব্যাংক খাত থেকে ধার নেওয়া হয়েছে প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকা এবং নন-ব্যাংক খাত থেকে ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

বৈদেশিক ঋণের চাপ

আগের সরকারের নেওয়া বৈদেশিক ঋণের বড় বোঝা এখন পরিশোধ করতে হচ্ছে বেশি দামে ডলার কিনে। যখন ঋণ নেওয়া হয়েছিল তখন ডলারের দাম ছিল ৮৫-৮৬ টাকা। এখন প্রায় ১২২ টাকা দরে বাজার থেকে ডলার কিনে সেই ঋণ শোধ করতে হচ্ছে। শুধু বৈদেশিক ঋণ পরিশোধেই গত অর্থবছরে খরচ হয়েছে প্রায় ৬১ হাজার কোটি টাকা।

এছাড়া সুদের হারও বেড়েছে। যে ঋণ ৫-৬ শতাংশ সুদে নেওয়া হয়েছিল, তা পরিশোধের সময় দাঁড়িয়েছে ৯-১০ শতাংশে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দণ্ড সুদ। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ঋণের মূল টাকার চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে।

রাজস্ব ঘাটতি ও সুদের চাপ

দুই বছর ধরে ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা থাকায় সরকারের রাজস্ব আয় প্রত্যাশার তুলনায় কমেছে। অথচ খরচ বেড়েই চলেছে। এর ফলে উন্নয়ন ব্যয় কমাতে হলেও ধার নেওয়া বন্ধ করা যাচ্ছে না। আগে যেখানে স্থানীয় বাজার থেকে ৪-৬ শতাংশ সুদে টাকা ধার পাওয়া যেত, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮-১২ শতাংশে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন