

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঘুষ দিয়েও হয়নি। নিরাপত্তা প্রহরীর চাকরি, ফেরত পাওয়া যায়নি কষ্ট করে দেওয়া উৎকোচের পাঁচ লক্ষাধিক টাকাও। দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরত না পাওয়ায়। অবশেষে প্রতিকার ও টাকা ফেরতের দাবিতে উপজেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এক ভুক্তভোগী যুবক।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার মুরাদবক্স রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসায়।
গত ২৩ জুলাই উপজেলা প্রশাসনে দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়নের হাড়িয়া গ্রামের মরহুম তাবজুল হকের ছেলে ভুক্তভোগী ইমরান হোসেনকে মুরাদবক্স রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ২০২৩ সালে নিরাপত্তা প্রহরী পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখান মাদ্রাসার সুপার আব্দুল তোয়াব এবং তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি কামরুজ্জামান লিটন। পরবর্তীতে চাকরি নিশ্চিত করার কথা বলে বিভিন্ন দফায় তাদের দুজনকে মোট ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দেন ইমরান।
তবে টাকা লেনদেনের দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তাকে চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। দেওয়া হয়েছে অন্য একজনকে অভিযোগ রয়েছে সেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ইমরানের থেকেও বেশি পরিমাণ টাকা নিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইমরান হোসেন তার দেওয়া উৎকোচের ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ফেরত চান। কিন্তু মাদ্রাসা সুপার ও সাবেক সভাপতি টাকা ফেরত না দিয়ে নানা টালবাহানা শুরু করেন এবং একপর্যায়ে টাকা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
পাওনা টাকা উদ্ধার এবং জালিয়াতির কঠিন বিচার চেয়ে অবশেষে ইমরান হোসেন বাদী হয়ে রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ইমরান হোসেন বলেন, চাকরির নামে ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাকে ধোঁকা দেওয়া হয়েছে। আজ সে নিঃস্ব। টাকা ফেরত চাইলে তারা তাকে বিভিন্নভাবে ঘোরাচ্ছে। বাধ্য হয়ে তিনি ন্যায় বিচারের স্বার্থে প্রশাসনের শরণাপন্ন হয়েছেন। তিনি টাকা ফেরতের পাশাপাশি এই দুর্নীতিবাজদের শাস্তি কামনা করছেন।
মাদ্রাসা সুপার আব্দুল তোয়াফ বলেছেন, ২০২৩ সালে নিরাপত্তা প্রহরি ও আয়া নিয়োগ হয়েছে। দুই পদে মোট ৮জন আবেদন করেছিলেন। মেধায় যে হয়েছে তাকেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইমরান আলীর বিষয়টি তার জানা নেই।
ওই মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান লিটন মুঠোফোনে জানালেন, অভিযোগটি মিথ্যা, ইমরান আলীর নিকট কোন টাকা গ্রহণ করা হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাদিজা বেগম জানালেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে, বিষয়টির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরির নামে এমন মোটা অংকের টাকা লেনদেন ও প্রতারণার ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।এছাড়া ওই মাদ্রাসায় নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার্থী উপিস্থিতি নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। সচেতন মহল দ্রুত এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


