সোমবার
২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জে তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টারের উদ্বোধন 

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৬, ১০:২০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

দেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের দক্ষতা উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।

শনিবার (১৮ জুলাই) সদর উপজেলায় বাংলাদেশ তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টারের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নবনির্মিত এই কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

মন্ত্রী ইকবাল হাসান বলেন, সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্পের ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তাঁতিদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে তাঁতিরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা থেকে বৃহৎ ব্যবসায়ীতে পরিণত হওয়ার সুযোগ পাবেন এবং দেশের অর্থনীতিতে আরও বেশি অবদান রাখতে পারবেন।

তিনি বলেন, শিল্প ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।

প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, সিরাজগঞ্জ বাংলাদেশের তাঁতশিল্পের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। এ অঞ্চলে প্রায় ৫০ হাজার তাঁতি এবং লক্ষাধিক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তাঁতশিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্প শুধু স্থানীয় অর্থনীতির ভিত্তি নয়, এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার অনন্য প্রকাশ।

তিনি বলেন, নবনির্মিত এই তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টার শুধু একটি অবকাঠামো নয়; এটি দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী নকশার বিকাশ এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। এখান থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তরুণ-তরুণী ও তাঁতিরা নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির সুযোগ পাবেন।

প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম বলেন, সিরাজগঞ্জের লুঙ্গি ও গামছা ইতোমধ্যে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এই স্বীকৃতি শুধু সিরাজগঞ্জের নয়, সমগ্র বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরেছে। এখন আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা, আধুনিক নকশা উন্নয়ন, শক্তিশালী ব্র্যান্ডিং এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করা।

তিনি আরও বলেন, জামদানি, টাঙ্গাইলের শাড়ি, শাহজাদপুরের শাড়ি, সিরাজগঞ্জের গামছাসহ দেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতপণ্য বাংলাদেশের পরিচয় বহন করছে। তাঁতশিল্প গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

মো. শরীফুল আলম বলেন, সরকার তাঁতশিল্পকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। সিরাজগঞ্জ তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টারে আধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর মাধ্যমে দক্ষ কারিগর ও উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হবে।

তিনি জানান, তাঁতিদের জন্য সহজ শর্তে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রান্তিক তাঁতিরা তাঁদের উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ পাচ্ছেন। ভবিষ্যতে আরও বেশি তাঁতিকে সহযোগিতার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সিরাজগঞ্জ সদর, কামারখন্দ, কাজীপুর ও তাড়াশ উপজেলার তাঁতিদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৮৭ সালে বেসিক সেন্টার, সিরাজগঞ্জ প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে এই কেন্দ্রের আওতায় ৩৫টি প্রাথমিক তাঁতি সমিতি এবং ১টি মাধ্যমিক তাঁতি সমিতি রয়েছে। এ পর্যন্ত এই কেন্দ্রের মাধ্যমে ২ হাজার ২৮২ জন তাঁতিকে প্রায় ১২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ঋণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরীফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান, সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি উপস্থিত ছিলেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন