

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ি ওয়েল ডিপোতে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুদ থাকার দাবি করা হলেও মাঠ পর্যায়ে চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাম্প মালিক, ডিলার ও ট্যাংক লরি চালকদের কাছ থেকে। এতে ইরি মৌসুমে কৃষিকাজ ও পরিবহন খাতে বাড়ছে ভোগান্তি।
উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলা সহ মোট ২০টি জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রধান কেন্দ্র বাঘাবাড়ি ওয়েল ডিপো। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা দুই দিন বন্ধ থাকার পর গত ২৩ মার্চ থেকে পুনরায় তেল বিপণন শুরু হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একদিনেই ডিপো থেকে সরবরাহ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার লিটার অকটেন, ৩ লাখ ৮৮ হাজার লিটার পেট্রল এবং ২১ লাখ ৪৪ হাজার লিটার ডিজেল।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল পর্যন্ত ডিপোতে মজুদ ছিল ১ কোটি ৬৭ লাখ ৫২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল। ছুটির দিনগুলোতে ১০ থেকে ১১টি তেলবাহী জাহাজ ডিপোতে এসে ভিড়েছে বলেও জানা গেছে।
তবে এই পরিসংখ্যানের বিপরীতে মাঠ পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। পাম্প মালিকদের অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় তারা ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না।
পাম্প মালিক মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এখন ইরি ধানের মৌসুম। এই সময়ে তেলের চাহিদা অনেক বেশি থাকে। কিন্তু আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাচ্ছি না। এতে পাম্পে আসা গ্রাহকদের সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।’
ডিলার আবু সাঈদ বলেন, ডিলারদের মধ্যে সঠিকভাবে তেল বণ্টন করা হচ্ছে না। কেউ বেশি পাচ্ছে, আবার অনেকেই কম পাচ্ছে। এতে বাজারে একটা অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।
ট্যাংক লরি চালক আব্দুল বাতেন বলেন, ‘আমরা অনেক দূর থেকে তেল নিতে আসি। কিন্তু এসে দেখি তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে সময় নষ্ট হচ্ছে, খরচও বাড়ছে।’
এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে বাঘাবাড়ি ওয়েল ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গণমাধ্যমকর্মীদের ডিপোতে প্রবেশ কিংবা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলার অনুমতিও মেলেনি।
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসফিকা হোসেন বলেন, ‘ডিপোতে পর্যাপ্ত তেল মজুদ রয়েছে। কে কতটুকু তেল পাবে সেটি নির্ধারণ করে বগুড়া সেলস অফিস। আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে গত বছরের তুলনায় এবারের লিফটিং বেশি। তবে ভোক্তা পর্যায়ে অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুদ করছেন, যার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।’
সরবরাহ ও বণ্টনে কার্যকর সমন্বয় এবং বাজারে নজরদারি জোরদার করা না হলে এই সংকট আরও প্রকট হতে পারে। তবে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এমন প্রত্যাশাই সংশ্লিষ্ট সকলের।
মন্তব্য করুন