

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে দাঁড়িয়ে আছে এক নীরব বিস্ময়, আল-আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদ। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি শুধু স্থাপত্য শৈলীর জন্য নয়, এর চারপাশে ছড়িয়ে থাকা এক অদৃশ্য আবহের কারণেও মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রে। দূর থেকে চোখে পড়ে সাদা মার্বেলে মোড়ানো গম্বুজ, আর কাছে এলে যেন অনুভূত হয় এক অন্যরকম প্রশান্তি।
সিরাজগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে, বেলকুচি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মুকন্দগাঁতী মহল্লায় সিরাজগঞ্জ-এনায়েতপুর সড়কের পশ্চিম পাশে আড়াই বিঘা জমির ওপর ৩১ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে নির্মিত হয়েছে এই মসজিদ। স্থানীয়দের কাছে এটি এখন শুধু ইবাদতের স্থান নয়, বরং এক অনন্য স্থাপত্য নিদর্শন।
প্রয়াত শিল্পপতি মোহাম্মদ আলী সরকারের উদ্যোগে ২০১২ সালে মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। নয় বছরের নির্মাণযাত্রায় প্রতিদিন অর্ধশতাধিক শ্রমিক কাজ করেছেন। কিন্তু নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই ২০২০ সালের ২ আগস্ট তিনি ইন্তেকাল করেন। পরে তাঁর ছেলে আমান উল্লাহ সরকার কাজ সম্পন্ন করেন।
দ্বিতল এই মসজিদের ওপর রয়েছে একটি বিশাল গম্বুজ, সঙ্গে আটটি ছোট গম্বুজ। দুই পাশে ১১০ ফুট উচ্চতার মিনার আকাশ ছুঁতে চায়। ভেতরে ইতালি ও ভারত থেকে আনা উন্নতমানের মার্বেল ও গ্রানাইট পাথরের কারুকাজে দেয়াল ও মেঝে ঝলমল করে। সাদা পিলার, সুউচ্চ জানালা আর পরিপাটি চত্বর মিলিয়ে পুরো স্থাপনাটি যেন এক শান্ত সৌন্দর্যের আবরণে ঢাকা।
মসজিদের ইমাম জানান, এখানে দায়িত্ব পালন করা তাঁর কাছে আমানত ও সৌভাগ্যের বিষয়। মুয়াজ্জিনও বলেন, ফজরের আজান দিতে দাঁড়ালে হৃদয়ে এক অনির্বচনীয় অনুভূতি কাজ করে।
মসজিদের পাশে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের থাকার কোয়ার্টার, পাঠাগার ও শৌচাগারের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রবেশপথের দুই পাশে কাঁচে ঘেরা অটো ফিল্টার পানির অজুর স্থান দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। প্রায় পাঁচ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন এখানে।
রাত নামলে মসজিদটি যেন নতুন রূপ নেয়। আলোর ঝলকানিতে গম্বুজ ও মিনারগুলো দূর থেকেই আলাদা করে চেনা যায়। নীরবতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এই স্থাপনাটি অনেকের কাছে শুধুই স্থাপত্য নয়, বরং এক অনুভবের জায়গা।
মন্তব্য করুন
