

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থীদের পরাজয়ের পেছনে দলেরই কিছু নেতা-কর্মীর ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ‘দিনের বেলায় বিএনপির সঙ্গে থেকে রাতে গুপ্ত হয়ে অন্যদের সঙ্গে বৈঠক করে দলীয় প্রার্থীদের পরাজিত করার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল।’
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে জেলা বিএনপি আয়োজিত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, সাতক্ষীরার দায়িত্ব পাওয়ার পর বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করে তিনি বেশ কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছেন। সেই প্রস্তুতি নিয়েই তিনি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এসেছেন। তার ভাষ্য, চারজন এমপিকে হারানোর পেছনে নেতাকর্মীরাই মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। চারজন এমপিকে হারানোর জন্য আপনারা ষড়যন্ত্র করেছেন।
তিনি বলেন, ‘চারজন এমপিকে হারানোর জন্য দিনে বিএনপি, রাতে গুপ্ত ষড়যন্ত্র করেছেন। আমার কাছে সবার আমলনামা আছে। প্রয়োজন হলে সেই আমলনামা নিয়ে সবার সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান কথা বলতে পারি। দিনের বেলায় বিএনপির রাজনীতি করলেও রাতে অন্ধকারে গোপন বৈঠকে অংশ নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।’
বিএনপির অভ্যন্তরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, দলের সিদ্ধান্তের প্রতি সবাইকে অনুগত থাকতে হবে। নির্বাচনে দল যাকে মনোনয়ন দেবে, নেতা-কর্মীদের তার পক্ষেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘দল যখন একজনকে নমিনেশন দেয়, দল যদি আপনি করেন, তাহলে তার পেছনেই আপনাকে থাকতে হবে। আর যদি সেটা না করেন, আপনার সারা জীবনের অর্জন ওইখানেই ধ্বংস হয়ে যাবে। রাজনীতি খুব নিষ্ঠুর জায়গা।’
দলীয় প্রার্থীদের পরাজিত করতে বিভিন্ন আসন থেকে লোকজন এনে রাতের বেলায় বৈঠক করার অভিযোগও করেন আইনমন্ত্রী। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তার কাছে তথ্য ও রেকর্ড রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাদাভাবে এ বিষয়ে কথা বলবেন। দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে দলও একসময় তাদের বর্জন করবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় নেতা-কর্মীদের বক্তব্যের ধরন নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, বক্তব্য দিতে গিয়ে অনেকেই বারবার ‘আমি’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। ‘আমি সব করেছি’, ‘আমিই ত্যাগ করেছি’, ‘আমি নির্যাতিত হয়েছি’ এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।
আসাদুজ্জামান বলেন, বিএনপির মৌলিক আদর্শের জায়গা হলো ‘আমরা’। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়।
তিনি বলেন, নেতা-কর্মীরা যদি বক্তব্যে ‘আমরা’ শব্দটি ধারণ করতে না পারেন, তাহলে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির ঘুরে দাড়ানো কঠিন হবে। দলের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের ‘আমিত্বকে আমরাতে রূপান্তরিত’ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এটি সম্ভব হলে দলের ভেতরে তৈরি হওয়া সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানান আইনমন্ত্রী। বিশেষ করে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির সঙ্গে কেউ জড়িত হলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
আসাদুজ্জামান বলেন, কোনো নেতা-কর্মী দলের জন্য যতই ত্যাগ স্বীকার করুন বা দলের প্রতি যতই নিবেদিত থাকুন, চাঁদাবাজি, দখলবাজি কিংবা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কর্মকাণ্ডে জড়ালে তাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা পরাজিত হন। চারটি আসনেই জয় পান জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা।
মতবিনিময় সভায় সাতক্ষীরা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিথীকা বিনতে হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশ, সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলুসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

