

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উত্তরের রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র রংপুরে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে ১১ দলীয় জোট। জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের সবকটিতেই জয়লাভ করেছে এই জোটের প্রার্থীরা। এর মধ্যে ৫টি আসনে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা এবং একটিতে জয়ী হয়েছে জোটের শরিক এনসিপি। এই নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয় হয়েছে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের।
ছয়টি আসনেই জামায়াত জোট প্রার্থীদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে বিএনপির সঙ্গে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন জোটের প্রার্থীরা। অন্যদিকে একসময় দুর্গখ্যাত এই অঞ্চলে জাতীয় পার্টি তৃতীয় অবস্থানে নেমে গেছে, যা উত্তরাঞ্চলের রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া - সিটি আংশিক ) আসনে জামায়াতের মনোনীত (দাঁড়িপাল্লা) রায়হান সিরাজী বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোকারম হোসেন সুজন (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৪০৭ ভোট।
রংপুর- ২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা) ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৮০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৯১০ ভোট।
রংপুর- ৩ সদর আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল (দাঁড়িপাল্লা) ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮২৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সামসুজ্জামান সামু (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট। এই আসনের আলোচিত প্রার্থী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের (লাঙ্গল) মাত্র ৪৩ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। উল্লেখ্য, জি এম কাদের আজ সারাদিন বাসায় অবস্থান করলেও নিজের ভোটটি দিতে কেন্দ্রে যাননি।
রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে চমক দেখিয়েছে এনসিপি প্রার্থী। এই আসনে ১১ দলীয় জোটের শরিক এনসিপি মনোনীত প্রার্থী আখতার হোসেন (শাপলা কলি) ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ধানের শীষের প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসাকে ৮ হাজার ৩৩১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬১৬ ভোট।
রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী গোলাম রব্বানী (দাঁড়িপাল্লা) ১ লাখ ৭৫ হাজার ২০৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির একই নামের প্রার্থী গোলাম রব্বানী (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ১৪১ ভোট।
রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয় শেষে জয়ী জামায়াতের প্রার্থী। এই আসনটিতে সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা দেখা গেছে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত । শেষ পর্যন্ত জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিন (দাঁড়িপাল্লা) ১ লাখ ১৮ হাজার ১৬০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৪৬ ভোট। মাত্র ১৫১৪ ভোটের ব্যবধানে এখানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে।
এদিকে, রংপুরের ৬টি আসনেই জামায়াত জোটের প্রার্থীরা বিজয়ী হওয়ায় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বইছে উৎসবের আমেজ। বাদ জুমা আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ দোয়া। জাতীয় পার্টির দুর্গে জামায়াতে ইসলামীর এই বিশাল আধিপত্য জেলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন