

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


“সকাল আটটা থেকে বসে আছি, এখন দুপুর গড়িয়ে গেল, ডাক্তারই পাই না। গরিব মানুষ, প্রাইভেট ক্লিনিকে যাওয়ার টাকা নেই।”—কথাগুলো বলছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা সৈয়দপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল হাকিম।
শুধু আব্দুল হাকিম নন, তাঁর মতো শত শত রোগী প্রতিদিন এভাবেই চিকিৎসা না পেয়ে হাসপাতাল থেকে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাগজে-কলমে ৩২ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বাস্তবে সেবা দিচ্ছেন মাত্র ৪ জন। ফলে উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রটি এখন নিজেই যেন ধুঁকছে।
হাসপাতালটিতে সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই রোগীদের দীর্ঘ লাইন। কিন্তু চিকিৎসকের চেয়ারগুলো ফাঁকা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে অনেকেই বিনা চিকিৎসায় বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও সাধারণ মানুষ, যাদের বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য নেই, তারা পড়েছেন চরম বিপাকে।
জ্বর নিয়ে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নারী রোগী রহিমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জ্বর নিয়ে সকাল থেকে দাঁড়িয়ে আছি। চারজন ডাক্তার দিয়ে এত রোগী কীভাবে দেখে? শেষ পর্যন্ত চিকিৎসা না নিয়েই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।”
অন্যদিকে, শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় বিপদে পড়েছেন মায়েদের অনেকেই। ফাতিমা নামের এক অভিভাবক জানান, তাঁর বাচ্চার জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে এসে কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ পাননি। বাধ্য হয়ে শিশুকে নিয়ে তিনি এখন দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও ক্ষোভ স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, যে কয়জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন, তাঁদের অনেককেই নিয়মিত হাসপাতালে পাওয়া যায় না। পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নসরতে খোদা রানা বলেন, “হাসপাতালে ডাক্তার থাকার কথা ৩২ জন, অথচ দেখা যায় মাত্র কয়েকজন। বাকিরা কোথায় থাকেন, তা কেউ জানে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক চিকিৎসক সরকারি দায়িত্বের চেয়ে ব্যক্তিগত চেম্বার ও বেসরকারি ক্লিনিকে সময় দিতে বেশি আগ্রহী।”
জনবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেছেন পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল আহমেদ। তিনি বলেন, “৩২ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে মাত্র চারজন চিকিৎসক দিয়ে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে রোগীরা যে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তা সত্য।”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত এই সংকট সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে কবে নাগাদ পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন
