

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সবুজ পাহাড়ের ঢালে ঢালে কাঁচা হলুদের গন্ধে ভাসছে বাতাস। কোথাও সিদ্ধ হচ্ছে হলুদ, কোথাও হচ্ছে রোদে শুকানো- সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন পাহাড়ি জনপদের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকলেও থেমে নেই পাহাড়ি হলুদ চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ। সবুজ পাহাড়ের অনেক কৃষকের ভরসাই এখন হলুদ চাষে। যা অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা।
পাহাড়ে হলুদ চাষ খুবই লাভজনক কারণ এখানকার মাটি ও জলবায়ু উপযোগী এবং এটি স্বল্প পরিশ্রমে ছায়াযুক্ত স্থানে ভালো হয়; চাষের জন্য উঁচু ঢালু জমি, জৈব সার এবং উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করা হয়।
যেখানে জুম চাষের পাশাপাশি মিশ্র ফসল হিসেবে হলুদ চাষ করা হয়ে থাকে, যা কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
হ্রদ-পাহাড়ঘেরা পার্বত্য জেলা রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় বছরের তিন-চার মাস ধরে চলে হলুদের মৌসুম। দুর্গম পাহাড়ি ঢাল থেকে সংগ্রহ করা কাঁচা হলুদ নেমে আসে বাজারে।
বিশেষ করে উপজেলার আটারকছড়া ও ইসলামবাদ এলাকায় দিন-রাত কৃষক ও ব্যবসায়ীর ব্যস্ততা চোখে পড়ে। এখানে হলুদ সিদ্ধ করা, রোদে শুকানো ও মেশিনে পরিষ্কারের কাজ চলে একটানা। পুরো এলাকাজুড়েই যেন কর্মচাঞ্চল্য।
সংগ্রহ করা কাঁচা হলুদ বড় পাত্রে সিদ্ধ করার পর রোদে শুকানো হয়। পরে মেশিনে পরিষ্কার করে বাজারজাত করা হলে পাহাড়ের হলুদ পৌঁছে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ‘পাহাড় থেকে হলুদ সংগ্রহ করে গাড়ি করে নিয়ে আসা হয়। পরে সিদ্ধ করে শুকিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে বাজারে বিক্রি করতে হয়।’
গত বছরের তুলনায় এবার হলুদের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবুও লাভের আশায় ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে কাঁচা হলুদ কিনছেন বলে খাগড়াছড়ির হলুদ ব্যবসায়ী আল-আমিন বলেন, ‘আশা করছি গতবারের চেয়ে এবার একটু বেশি লাভ হবে। এখনো বড় ক্রেতারা পুরোপুরি বাজারে নামেনি। তারা এলে বিক্রি শুরু হবে।’
হলুদের ওপর নির্ভর করেই পার্বত্যাঞ্চলের অনেক পরিবারের জীবিকা চলে বলে জানান স্থানীয়রা। হলুদ শ্রমিক পারভেজ বলেন, ‘আমরা সবসময়ই হলুদের কাজ করি। এই কাজের মাইনে দিয়ে অনেক পরিবারের রুটি-রুজির ব্যবস্থা হয়।
হলুদের উৎপাদন বাড়াতে কাজ করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ বলেন লংগদু উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. ইসরাফিল হক। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে লংগদুতে ৩৫ জন কৃষককে হলুদ চাষে প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে।
প্রত্যেক কৃষককে ১০০ কেজি উন্নতমানের হলুদের বীজ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ৫ কেজি করে ডিএপি ও এমওপি সার দেওয়া হচ্ছে। হলুদ চাষে যেকোনো পরামর্শ ও সহযোগিতায় উপজেলা কৃষি অফিস সব সময় কৃষকদের পাশে আছে।
প্রান্তিক কৃষকেরা হলুদ চাষ করে বেশ লাভবান হচ্ছে। যার ফলে পার্বত্য অঞ্চলে দিন দিন হলুদের চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলছেন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত হলে দুর্গম জনপদ লংগদুর পাহাড়ি হলুদ জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং পাহাড়ের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অংশীদারত্বের বাহক হবে।
মন্তব্য করুন
